ভিনধর্মের ছেলেকে ভালোবেসেছিলেন।  বাড়িতে অমতে পালিয়ে বিয়ে করাই শুধু নয়, নিজের নাম বদলে ফেলেছিলেন এক তরুণী। কিন্তু দাম্পত্য জীবন আর সুখের হল কই! ভয়ঙ্কর এই অভিজ্ঞতা থেকে বাঁচতে ওই তরুণী বেছে নিয়েছিলেন বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক।  সেই সম্পর্কের হাত ধরে নতুন সংসার পাততে গিয়েও বিপদ। কারণ, প্রেমিকের সঙ্গে তাঁর সেই সংসারে মঙ্গলবার চড়াও হন স্থানীয় মহিলারা। ওই তরুণীকে স্বামীর ঘর ছেড়ে আসায় দেওয়া হয় গণধোলাই। ঘটনাটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায়।

আক্রান্ত মহিলার নাম পূজা ভান্ডারী। বাড়ি, বীরভূমের বোলপুরে। বছর পাঁচেক আগে ভালবেসে শফিকুল ইসলাম নামে এক যুবককে বিয়ে করেন পূজা। বিয়ের পর পূজার নাম হয় মরিয়ম। শফিকুল ও মরিয়ম সংসার পাতেন কলকাতার দমদমে।  জানা গিয়েছে, ভিনধর্মের যুবকের সঙ্গে মেয়ে সম্পর্ক মেনে নেননি পুজার বাড়ির লোকেরা। প্রেমিকের সঙ্গে রাতের অন্ধকার কলকাতায় পালিয়ে এসেছিলেন কলকাতায়। দমদমে ওই দম্পতির এক কন্যাসন্তান। কিন্তু যাঁকে ভালবেসেছিলেন, তাঁকে বিয়ে করেও দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে পারেননি মরিয়ম।  বরং সফিকুলের সঙ্গে থাকতে গিয়ে হাঁফিয়ে উঠেছিলেন বছর তেইশের ওই যুবতী।  কাজের সূত্রে দমদম যাতায়াত ছিলেন জয় নামে এক যুবকের। তাঁর প্রেমে হাবুডুবু খেতে থাকেন ওই গৃহবধূ।  দু'জনের পরকীয়া দানা বাঁধতে বেশি সময় লাগেনি। মরিয়ম স্বামী সফিকুল ইসলামের দাবি,  অষ্টমীর দিন প্রেমিক জয়ের সঙ্গে পালিয়ে যান তাঁর স্ত্রী।  

দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের ঢোলাহাটের গুরুদাসপুর গ্রামের খালপাড়ে জয়ের সঙ্গে ফের নতুন করে সংসার পাতেন মরিয়ম। রাতারাতি শাঁখা-সিঁদুর পরে ফের মরিয়ম থেকে বনে যান পূজা।  কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি।  মঙ্গলবার বিকেলে মেয়েকে কোলে নিয়ে গুরুদাসপুরে হাজির হন সফিকুল। ঘটনাটি জানাজানি হতে এলাকায় ভিড় জমে যায়। যদিও আগের স্বামীর কাছে ফিরতে যেতে চাননি পূজা। বরং তিনি সাফ জানিয়ে দেন, রাজুর সঙ্গে নিজের ইচ্ছায় চলে এসেছেন। সফিকুলকে বিয়ে করেছিলেন ঠিকই। তবে এখন আর তাঁর কাছে ফিরে যেতে চান না।  পূজাকে রীতিমতো গণধোলাই দেন স্থানীয় মহিলারা।  তাতেও অবশ্য লাভ হয়নি। শেষপর্যন্ত রণে ভঙ্গ দেন সফিকুলই। মেয়েকে নিয়ে ফিরে যান তিনি।