সাতসকালে বনকর্মী ও এক মহিলাকে কুপিয়ে খুন! চাঞ্চল্য ছড়াল বাঁকুড়ার মাগরা। ঘটনার পর অভিযুক্তের বাড়িতে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালান স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। কিন্তু কী কারণে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড?  তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিক তদন্তে খুনের নেপথ্যে পারিবারিক বিবাদ বলেই মনে করছে পুলিশ।

বাঁকুড়া থানার মাগরা গ্রামে থাকেন গুণময় চৌধুরী। পেশায় তিনি বন দফতরের কর্মী। রোজকার মতোই সোমবার সকালে প্রাতঃভ্রমণ সেরে গ্রামেরই একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আচমকাই কুড়ুল নিয়ে ওই বনকর্মীর উপর চড়াও হয় অরূপ চৌধুরী নামে এক যুবক। গুণময়কে এলোপাথারি কোপ মারতে থাকে সে। ঘটনাস্থলেই মারা যান আক্রান্ত ব্যক্তি। কিন্তু তাতেও ক্ষান্ত হয়নি অরূপ। ঘটনার সময়ে ওই চায়ের দোকানের সামনে রাস্তায় দিয়ে যাচ্ছিল নিছু  রায় নামে এক মহিলা। রেহাই পাননি তিনিও। নিছুকেও অরূপ কুড়ল দিয়ে কোপ মারে বলে অভিযোগ। তিনিও মারা যান। এদিকে এই নৃশংসভাবে দু'জনকে কোপ মারার পর চম্পট দেয় অভিযুক্ত অরূপ চৌধুরী।  ঘটনার পর  অরূপের বাড়িতে চড়াও হয়ে  ভাঙচুর চালান স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে অভিযুক্তকে।

কিন্তু বন দফতরের কর্মী গুণময় চৌধুরীকে কেন খুন হতে হল? তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, নিহত গুণময় চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে হামলাকারী অরূপ চৌধুরীর পরিবারের জমিজমা নিয়ে বিবাদ ছিল। দুই পরিবারের মধ্যে বেশ কয়েকবার ঝামেলাও হয়। তদন্তকারীদের অনুমান, পুরনো বিবাদের কারণেই সম্ভবত গুণময়কে খুন করেছে অরূপ। গুণময়ের পরিবারের সঙ্গে না হয় জমিজমা নিয়ে বিবাদ ছিল। কিন্তু নিছু রায়কে কেন মরতে হল? তদন্তকারীদের ধারণা, গুণময়ের উপর যখন হামলা চালায় অরূপ, তখন তাকে দেখে ফেলেছিলেন নিছু। তাই প্রমাণ লোপাটের জন্যই খুন করা হয়েছে ওই মহিলাকে।  তদন্তে  নেমেছে বাঁকুড়া থানার পুলিশ। এদিকে অভিযুক্তের পরিবারের লোকেদের দাবি, অরূপ মানসিকভাবে সুস্থ নয়।  বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসাও হয়েছে। কিন্তু ওই যুবককে যে এমন কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলবে, তা বুঝতে পারেননি তাঁরা। জোড়া খুনে অভিযুক্ত অরূপ চৌধুরীর কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে নিহত গুণময় চৌধুরীর পরিবারের লোকেরা।