আড়াই লক্ষ নতুন রেশন গ্রাহকের তালিকা তৈরি করল বীরভূম জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার থেকে মহকুমাশাসক ও বিডিও দপ্তর থেকে  তা বিলি করা হবে। জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা জানান, রবিবার রেশন ডিলার ও খাদ্য আধিকারিকদের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানেই ঠিক হয় মঙ্গলবার থেকে গ্রাহকদের হাতে কুপন দিয়ে দেওয়া হবে। সেগুলি নির্দিষ্ট রেশন দোকানে দেখালেই বিনামূল্যে চাল গম পাওয়া যাবে। জেলা রেশন ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সম্পাদক অলক ঠাকুর জানান, মঙ্গলবার থেকে রবিবার পর্যন্ত জেলার সব ডিলার্স রেশন দোকান খুলে রাখবে। যার যখন সুবিধা হবে আমরা তাদের সে ভাবেই সহযোগিতা করব।

যদিও সোমবার জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে জেলাশাসকের কাছে রেশন নিয়ে নানান দূর্নীতির অভিযোগ তুলেছে। জেলা খাদ্য নিয়ামক তরুণ মন্ডল রেশন নিয়ে দূর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন। রেশন কার্ড হাতে না থাকায় জেলার বহু গ্রাহক রেশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে যাঁরা কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন, অনুমোদনের পর হয় তা ছাপানো হয়নি অথবা ছাপানো হয়েছে, কিন্তু কার্ড বিলি করা হয়নি। এমনই গ্রাহকদের তালিকা রাজ্য থেকে জেলায় পাঠান হয়েছে। তাতে আর কে এস ওয়াই ওয়ান তালিকাভুক্ত গ্রাহক দুলক্ষ ২৪ হাজার। আর ওয়াই টু তালিকাভুক্ত ২৬ হাজারের নামের তালিকা এসেছে। পৌরসভার ক্ষেত্রে মহকুমাশাসকের দপ্তর ও গ্রামীন ক্ষেত্রে বিডিওর দফতর থেকে এই কার্ড বিলি হবে।

এদিকে রেশন বিলি নিয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল সোমবার জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন, সরকারের ঘোষিত যে রেশন তা থেকে গ্রামে গঞ্জে গ্রাহকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। প্রাপ্য রেশন গরীব মানুষরা। রেশন ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সম্পাদক অলক ঠাকুর বলেন,  গ্রাহকেরা সরকারি নির্দেশ বুঝতে ভুল করছেন। ওয়ান গ্রাকদের চাল গম মিলিয়ে মোট পাঁচ কেজি বিনামূল্যে মাসে একবার দেওয়া হবে। আর বাড়তি রেশন নেই। ওয়াই টু কে বরাদ্দ চাল গম টাকা দিয়েই কিনে নিতে হবে। এই নির্দেশকে কেউ কেউ অপপ্রচার করছে। যদিও জেলা প্রশাসনের একটা অংশ স্বীকার করে নিচ্ছেন, বেশ কিছু রেশন ডিলার্সদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তবে অলক ঠাকুর বলেন এই সময় অভিযোগের নয়। মানুষ যাতে সুষ্ঠভাবে রেশন পায়, সেটা সকলে মিলে দেখতে হবে।