প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও গণপিটুনির ঘটনা থামছে না রাজ্যে। বুধবার দুপুরে ফের মোবাইল ও বাইক চোর সন্দেহে দুই যুবককে বেঁধে রাস্তায় ফেলে গনপিটুনি দিল উত্তেজিত জনতা। ঘটনাটি ঘটেছে, মালদহের রামকৃষ্ণপল্লীর নবীন হল সংলগ্ন ৩৪ নং জাতীয় সড়ক এলাকায়। 

আশপাশেই বিভিন্ন দোকান, শপিং মল রয়েছে। সেখানে প্রায় প্রতিদিনই চুরি হচ্ছে অসংখ্য মোবাইল । এখানে মোটরবাইকও রাখা থাকে রাস্তার ধারে। স্থানীয়দের অভিযোগ,সেখান থেকে একটি বাইক ও মোবাইল চুরি করে ওই দুই যুবক পালাচ্ছিল। সেই সময় তাদের ধরে ফেল উত্তেজিত জনতা। তারপরেই শুরু হয় ওই দুই যুবককে গণধোলাই। চড় , থাপ্পড়, কিল,ঘুষির পাশাপাশি লাঠিপেটা করা হয় ওই দুই যুবককে।  তাদের মুখ দিয়ে অঝোরে রক্ত ঝরতে থাকে। প্রায় আধমরা অবস্থায় রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকে ওই দুই যুবক। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। পুলিশি হস্তক্ষেপে ক্ষিপ্ত মানুষের হাত থেকে উদ্ধার হয় ওই দুই যুবক। তাদের চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়েছে মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,  আটক দুই যুবকের নাম মনোতোষ দাস (২১) এবং ঝন্টু সাহা (২০)। তাদের বাড়ি ইংরেজবাজার থানার তেলিপুকুর এলাকায়। এদিন নবীন হল সংলগ্ন একটি শো-রুমের পাশেই ওই দুই যুবক নাকি একটি বাইক চুরির চেষ্টা চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ। আর সেই সময় এলাকার কিছু মানুষ দেখে ফেলে। এরপর ওদের হাতেনাতে ধরে নেয়। শুরু হয় বেদম মার। কখনো রাস্তার ধারে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে আবার কখনো হাত-পা বেঁধে চলে গণধোলাই। একাংশ জনতার মারে রীতিমতো জখম হয়ে পড়ে ওই দুই যুবক । 

স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, সময়মতো পুলিশ যদি না ঘটনাস্থলে পৌঁছাত তাহলে একাংশ জনতার গণপিটুনিতে হয়তো ওরা মরেই যেত। এদিকে মালদহে ঘনঘন গণপিটুনির ঘটনা নিয়ে রীতিমতো অসন্তুষ্ট জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া। তিনি বলেন, এভাবে আইন যদি কেউ হাতে তুলে নেয় তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না । যদি চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় যদি কাউকে সন্দেহজনক বলে মনে হয়, বা ধরা পড়ে তাহলে অবশ্যই নিকটবর্তী থানায় খবর দিন। পুলিশের হাতে তুলে দিন । মারধর করে আইন কেউ নিজের হাতে তুলবেন না।  এ ব্যাপারে শহর থেকে গ্রাম বিভিন্নভাবে মাইকিং-এ সচেতনতামূলক প্রচার করা হচ্ছে ।