তোড়জোড় চলছিলই। পুরভোটের আগে রীতিমতো কমিটি গড়ে বিজেপি সাফাই অভিযানে নামলেন দলের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরাই। পুরুলিয়া শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে প্রকাশ্য সমাবেশ করলেন তাঁরা। বেজায় অস্বস্তিতে গেরুয়াশিবিরের জেলা নেতৃত্ব।

জেলায় যে গেরুয়াশিবিরের শক্তি বাড়ছে, তা মালুম হয়েছিল পঞ্চায়েত ভোটের সময়। গত লোকসভা ভোটে পুরুলিয়া আসনটি তৃণমূলের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। দুই লক্ষেরও বেশি ভোটে জেতেন পদ্মশিবিরের প্রার্থী জ্যোর্তিময় সিং মাহাতো। কিন্তু পুরভোটের আগে বিদ্রোহ মাথাছাড়া দিয়েছে গেরুয়াশিবিরের অন্দরে। জানা গিয়েছে,লোকসভা ভোটের পর থেকে দলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন কর্মীদের একাংশ। সাসপেন্ড হয়েছেন পুরুলিয়া উত্তর মণ্ডলের প্রাক্তন সভাপতি নির্মল কেশরী, সাধারণ সম্পাদক নগেন ওঝা, ওবিসি মোর্চার সভাপতি বাবাই সেন-সহ বেশ কয়েকজন। সোমবার সকালে পুরুলিয়া শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে 'বিজেপি বাঁচাও কমিটি'র প্রথম সমাবেশে নেতৃত্ব দিলেন দলের এই বিক্ষুব্ধ নেতারাই।  সমাবেশে বক্তব্য় রাখতে গিয়ে খোদ পুরুলিয়া বিজেপি সাংসদ ও দলের জেলা সভাপতিকে কটাক্ষ করলেন গেরুয়াশিবিরেরই প্রাক্তন নেতা নির্মল কেশরী। তিনি একসময়ে বিজেপি পুরুলিয়া উত্তর মণ্ডলের জেলা সভাপতি ছিলেন। সমাবেশ হাজির ছিলেন বিজেপি ওবিসি মোর্চার প্রাক্তন সভাপতি বাবাই সেন-সহ আরও অনেকেই।

আরও পড়ুন: বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতের উদ্যোগ, অলচিকিতে লেখা হল পঞ্চায়েত সমিতির নাম

পুরসভা ভোটের আগে দলের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের এই সমাবেশকে অবশ্য বিশেষ আমল দিচ্ছে না বিজেপি-র পুরুলিয়া জেলা নেতৃত্ব। বরং এমন ঘটনায় অবাক হননি দলের সাধারণ সম্পাদক বিবেক রাঙ্গা। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি-র বিক্ষুদ্ধ নেতাদের প্রকাশ্যে সমাবেশ করতে সাহায্য করেছে রাজ্যের শাসকদল। বিজেপিতে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই।  তবে বিজেপি নেতারাই যাই বলুন না কেন, পুরভোটের আগে ঘটনাটিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিক নজর সকলেরই।