মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানসিক চিকিৎসা করানোর আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে চলেছেন তিনি। এমনই দাবি করলেন ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংহ। মুখ্যমন্ত্রীর মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অর্জুনের দাবি, সাংবিধানিক পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন মমতা। 

শুক্রবার কাঁচরাপাড়ায় গিয়ে বিজেপি-র বিরুদ্ধে বাঙালি- অবাঙালি বিভেদ তৈরির অভিযোগ তোলেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ব্যারাকপুর, ভাটপাড়ার মতো এলাকায় বাঙালিদের ভয় দেখানো হচ্ছে। নাম না করলেও স্বভাবতই মমতার নিশানা ছিল ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংহের দিকেই। বিজেপি নেতা মুকুল রায়কেও নাম না করে আক্রমণ করেন মমতা।  

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকেই কটাক্ষ করে অর্জুনের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী বাঙালি এবং বিহারীদের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁর অভিযোগ, একজন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই ধরনের মন্তব্য মানায় না। ভোটের রাজনীতির জন্যই মমতা এমন মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ বিজেপি সাংসদের। 

অর্জুন এ দিন দাবি করেন, তৃণমূল সরকার আর ছ' মাসের বেশি ক্ষমতায় থাকবে না। নিজের দাবির পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি বলেন, 'এই সরকার আর চলবে না। যিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন, তাঁর এরকম সাংবিধানিক পদে থাকার কোনও অধিকার নেই। তাই সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করছি। যাতে এই পদে ওনার বসা উচিত কি না তা খতিয়ে দেখতে ওনার মানসিক সুস্থতার পরীক্ষা করা হয়। কারণ উনি সাংবিধানিক পদে বসে উনি যে মন্তব্য করছেন, তাতে গৃহযুদ্ধ বেঁধে যাবে।' সংসদ শুরু হলে সেখানেও তিনি বিষয়টি নিয়ে সরব হবেন বলে জানিয়েছেন অর্জুন। 

জুনিয়র চিকিৎসকদেরও পাশে দাঁড়িয়েছেন অর্জুন সিংহ। তাঁর অভিযোগ, 'সংকীর্ণ রাজনীতির জন্য জুনিয়র চিকিৎসকদের মৃত্যুর মুখে ফেলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিকিৎসকরা তো শুধু নিরাপত্তার দাবি করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উনি ব্যর্থ, পুলিশমন্ত্রী হিসেবেও ব্যর্থ। শেখ শাজাহানের মতো যারা খুনে অভিযুক্ত, তাদেরকে উনি নিরাপত্তা দিচ্ছেন, আর জুনিয়র ডাক্তারদের নিরাপত্তা দিতে পারছেন না।' 

শুক্রবার কাঁচরাপাড়ায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, তিনি বখাটে ছেলেদেরও দলে চান। তাঁদেরকে চাকরি দেওয়ার কথাও বলেন মমতা। পাল্টা কটাক্ষ করে ব্যারাকপুরের সাংসদ এ দিন বলেন, 'ভাল ছেলেদের চাকরি দিচ্ছেন না, ডাক্তারদের মারধর করাচ্ছেন, আবার বলছেন বদমায়েশ ছেলেদের চাকরি দেবেন। লজ্জা হয় যে উনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।' যদিও অর্জুনের এই মন্তব্যকে উপেক্ষা করার কৌশল নিয়ে তৃণমূল। খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, 'অর্জুনের মন্তব্যের কোনও জবাব দেব না।'