নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত মমতা। অন্যদিকে বাঙালি নোবেল জয়ীর চিন্তাধারাকে সমর্থন করছেন না রাজ্য বিজেপি। টুইটারে অভিজিৎ সম্পর্কে শুরু হয়েছে বিজেপির নেতিবাচক টুইট। যার জেরে বাংলার রাজনীতিতে এখন 'অ্যাডভান্ডেজ মমতা'। 

এ যেন শাখের করাতের মতো অবস্থা। প্রশংসা করলে বিপদ, নিন্দা করলেও বিপদ। বর্তমানে নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্য়োপাধ্য়ায় নিয়ে এমনই অবস্থা হয়েছে রাজ্য বিজেপির। পরিস্থিতি এমনই হয়েছে যে দিল্লি থেকে অভিজিৎ সম্পর্কে সতর্ক মন্তব্য করতে বার্থা দেওয়া হয়েছে দলকে। যার জেরে সাদামাটা অভিনন্দন জানিয়েই অভিজিৎ পর্ব গোটাচ্ছে দিলীপ বাহিনী। 

অভিজিৎ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে ঘিরে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে সাজ সাজ  রব। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে সম্বর্ধনা জানাতে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্য় সরকার। নিজেই অভিজিতের মায়ের কাছে পৌঁছে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।  অভিজিতের জয়কে বাংলার জয় হিসাবে দেখছেন মমতা। সেখানে অভিজিৎ নিয়ে সতর্ক থাকছে দিলীপ ব্রিগেড। কারণ একটাই , দেশের অর্থনীতি নিয়ে ইতিমধ্যেই নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন অভিজিৎবাবু। এখনই না শোধরালে মোদীর অর্থনীতি দেশকে ডোবাবে বলেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। যা দেখে আপাতত মুখে কুলুপ এঁটেছেন রাজ্য  বিজেপির নেতারা। বিজেপির কেউ কেউ সোশ্য়াল মিডিয়ায় সরব হতেই রাশ টেনেছে দিল্লি।

ইতিমধ্যেই বাঙালি অর্তনীতিবিদকে নিয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে দিল্লি। পাছে অভিজিৎ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য় মমতাকে অক্সিজেন জোগায়, তা নিয়ে চিন্তায় দিল্লি বিজেপির নেতারা। রাজ্য়ের সাম্প্রতিক অতীত বলছে, অভিজিৎ বন্দ্য়োপাধ্য়ায় নোবেল পেতেই তাঁর বাঙালিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গেরুয়া ব্রিগেডের নেটিজেনরা। অনেকেই বলেছেন, মা মারাঠি বাবা বাঙালি, তাহলে অভিজিৎ খঁটি বাঙালি হল কী করে ? যদিও বিজেপির এই মন্তব্য়ের পরই মুখ খুলেছে তৃণমূলের প্রচার সেল। তাঁরা বলতে শুরু করেছে, বিজেপি একটা বাঙালি বিরোধী দল। অসমে এনআরসি করে বাঙালি বিতারণের পর এবার অভিজিতের বাঙালিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। এই ঘটনাই প্রমাণ করে বিজেপি একটা বাঙালি বিরোধী দল। সোশ্য়াল মিডিয়ায় এই ঘটনার পরই সরব হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, অভিজিৎ নোবেল পাওয়ায় ওনাকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সোশ্য়াল মিডিয়ায় কেউ যদি ওনাকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে, এটা তাঁদের ব্য়ক্তিগত মতামত।