বোনাস ইস্যুতে বিরাট ফারাক দেখা দিয়েছে পাহাড় ও সমতলে। সমতলের চা শ্রমিকেরা ন্যায্য বোনাস পেয়ে থাকলেও পাহাড়ের চা শ্রমিকেরা একপ্রকার ব্রাত্য। এমনই অভিযোগ করছেন চা শ্রমিকরা। সেক্ষেত্রে পাহাড়ের চা শ্রমিকেরা দাবি তুলেছে ২০ শতাংশ হারে বোনাসের। যদিও একাধিক দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপাক্ষিক বৈঠক শেষেও সমাধান সূত্র অধরা। সেক্ষেত্রে এবার ২০ শতাংশ হারে বোনাসের দাবিতে আমরণ অনশনে বসার হুঁশিয়ারি দিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিনয় তামাং। তাঁর বক্তব্য, বাগান মালিকেরা প্রতারণা করছে শ্রমিকদের সঙ্গে। নিয়ম মানছে না। সেক্ষেত্রে আমরণ অনশন চলাকালীন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার বাগান কতৃপক্ষের। 

সমতলে ১৮.৫ শতাংশ বোনাস দেওয়া হলেও পাহাড়ে ১০.৫ শতাংশ হারে বোনাস দিতে রাজি হয়েছে বাগান কতৃপক্ষ। যদিও শ্রমিক সংগঠনগুলি ২০ শতাংশ হারে বোনাসের দাবিতে অনড় রয়েছে। সেক্ষেত্রে কলকাতার বুকে ছয়টি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয় মন্ত্রী মলয় ঘটকের উপস্থিতিতে। যদিও একাধিক বৈঠক শেষেও কোনও সমাধান সূত্র মেলেনি। এরপরেই সাতটি ট্রেড ইউনিয়ন একত্রিত হয়ে ৪ অক্টোবর ১২ ঘণ্টার বনধের ডাক দেয়। একইসঙ্গে মালিকপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, বনধের সমাপ্তি ঘোষণার আগেই বোনাসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করতে হবে। যদিও ১২ ঘণ্টার বনধ শেষেও মালিকপক্ষ কোনও সদুত্তর দেয়নি। এরপরেই শিলিগুড়িতে এক সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারি দিলেন বিনয় তামাং। 

এদিন বিনয় তামাং বলেন, একাধিক আলাপ আলোচনা হলেও কোনও লাভ হয়নি৷ মালিকপক্ষ ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করছে না। সেক্ষেত্রে আমরা সকলেই শ্রমিকদের পাশে রয়েছি। শ্রমিক স্বার্থে এদিনের বনধে ব্যাপক সারা মিলেছে। একপ্রকার বন্ধ ছিল পাহাড়। ব্যবসায়ীমহল থেকে শুরু করে গাড়ি চালকেরা চা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।