রাজ্যের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে এবার সংসদে প্রশ্ন তুললেন বাঁকুড়ায় বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার। বুধবার লোকসভায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে সরব হন তিনি। বিজেপি সাংসদকে পাল্টা জবাব দেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ও।

ডেঙ্গুর প্রতিরোধে পুরসভার যে একেবারেই কোনও পদক্ষেপই করেনি, তা কিন্তু নয়। বরং বছরভর চলেছে প্রচার। কলকাতা শহরের ইতিউতি নজরে পড়েছে পোস্টার-হোর্ডিংও। কিন্তু তাতেও যে বিশেষ লাভ হয়নি, শীতের মুখে তা ভালই টের পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।  কলকাতা-সহ রাজ্য জুড়ে ভয়াবহ আকার নিয়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। হাসপাতালে ভর্তি কয়েক হাজার মানুষ। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারাও যাচ্ছেন অনেকেই।  গত কয়েকদিনে তিন শিশুর মৃত্যুতে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।  বস্তুত বুধবার ভোরেও হুগলির চন্দননগর থেকে কলকাতার আনার পথে মারা গিয়েছেন এক যুবক।  পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, গত ১৬ নভেম্বর থেকে জ্বরে  ভুগছিলেন সোনু চৌধুরী নামে ওই যুবক। চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গুর ধরা পড়েছিল। সোনুর বাড়ি হুগলিরই ভদ্রেশ্বরে। 

এদিকে রাজ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ যত বাড়ছে,  প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ততই বাড়ছে।  বুধবার দক্ষিণ দমদম পুর এলাকায় ডেঙ্গু বিরোধী অভিযানে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন পুরসভার কর্মীরা। রাজ্য সরকারের সমালোচনার সরব বিরোধীরাও।  আর এবার সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেও রাজ্যে ডেঙ্গুর প্রসঙ্গ তুললেন বাঁকড়ার বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার। তিনি বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গে ৫০ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। রাজ্য সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধে পুরোপুরি ব্যর্থ।' বিজেপি সাংসদের প্রশ্ন, 'রাজ্যে ডেঙ্গুর প্রতিরোধের জন্য যে টাকা পাঠিয়েছে কেন্দ্র, সেই টাকা কোথায় গেল?' চুপ করে ছিলেন না তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরাও। ডেঙ্গু নিয়ে পাল্টা জবাব দেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।  লোকসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গে যিনি মুখ্যমন্ত্রী, তিনিই স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এমন নজির দেশের আর কোনও রাজ্য নেই। ডেঙ্গুর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং।'

এদিকে রাজ্য জুড়ে যখন থাবা বসিয়েছে ডেঙ্গু, তখন পশ্চিম মেদিনীপুরে জেলায় প্রাথমিকের পড়ুয়াদের নিয়ে শুরু হয়েছে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। ডেঙ্গুর প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে একটি করে মশারি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ।