নিজেদের জীবনে আলো নেই। আন্দাজে পথ হাতরে চলে জীবন সংগ্রাম। অথচ সেই দৃষ্টিহীনদের আলোতেই আলোকিত হবে কালীপুজো,দীপাবলী। পূর্ব মেদিনীপুরের চৈতন্যপুর এখন রোশনাইয়ের হাঁট।

হাতে জ্বলন্ত মোমবাতি। যে মোমবাতির  আলোয় মোহময়ী পরিবেশ তৈরি হলেও তা বুঝতে পারেন না ওরা। কিন্তু ওই আলোতেই ঠোটের কোনে ফুটে ওঠে এক চিলতে হাসি। কোথাও যেন একটা ভালোলাগার পরশ ওদের ছুঁয়ে যায়। এই  ভাললাগাটাও শুধুই তাদের কাছে অনুভবের। কারণ ওরা সবাই দৃষ্টিহীন। ওদের কারও চোখেই আলো নেই। তবুও  ওদের হাতের জাদুতেই আলোকিত হবে পূর্ব মেদিনীপুরের দীপাবলি উৎসব।

হলদিয়ার চৈতন্যপুরের বিবেকানন্দ মিশন আশ্রমের আবাসিক দৃষ্টিহীনদের তৈরি মোমবাতিতে সাজবে দীপাবলির সন্ধ্যা। কালীপুজোর প্রাক্কালে জুলাই মাস থেকে  প্রায় ১২ জন দৃষ্টিহীন আবাসিক মোমবাতি তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮০০ কুইন্টাল মোম দিয়ে আট ধরনের মোমবাতি বানিয়ে ফেলেছেন ওরা। বরং বলা ভালো ইতিমধ্য়েই প্রায় পঞ্চাশ হাজার প্যাকেট মোমবাতি বানিয়ে ফেলেছে ১২ জনের দল। যার মধ্যে তিরিশ হাজারের মতো প্যাকেট ইতিমধ্যে জেলার চারটি কোঅপারেটিভ সোসাইটি ছাড়াও স্থানীয় দোকানে পাঠানো হয়েছে। 

সংস্থার প্রশিক্ষক প্রভাস প্রামাণিক জানান, মোমবাতির চাহিদা বাড়লে আরও লাভের মুখ দেখবেন তাঁরা। যার ফলস্বরূপ দৃষ্টিহীনদের হাতেও লভ্য়াংশ তুলে দিতে পারবেন। স্বাভাবিকভাবেই এতে উপকৃত হবেন দৃষ্টিহীনরা। ইতিমধ্য়েই জেলার বিভিন্ন অংশে পৌঁছে গিয়েছে তাঁদের মোমবাতি। কালীপুজো, দীপাবলিতে যার রোশনাইতে ফুটে উঠবে সমাজ। প্রভাসবাবু জানিয়েছেন, ১৯৮৭ সাল থেকেই সেরা প্যারাফিন কিনে এই মোমবাতি তৈরি করেন তাঁরা। ফলে সারা বছরই তাঁদের মোমবাতির আলাদা চাহিদা থাকে। নিজে থেকেই তাঁদের কাছে এসে মোমবাতি নিয়ে যান দোকানদাররা।

কাজের বিষয়ে সংস্থার দৃষ্টিহীন কর্মী রবীন্দ্রনাথ মাইতি জানিয়েছেন, গত জুলাই মাস থেকেই দীপাবলির প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় তাঁদের। তখন থেকেই মোমবাতি তৈরি শুরু। তবে পণ্য়ের যে বিপুল চাহিদা তা ইতিমধ্যেই টের পেয়েছেন তাঁরা। তাই পুজোর আগে রাতদিন এক করে চলছে মোমবাতির প্রস্তুতি। ব্রত একটাই, নিজেরা অন্ধকারে থাকলেও আলো ছড়াবেন সমাজে।