রাজীব কুমারকে চাই। প্রাক্তন নগররপালকে ধরতে ফের জোরকদমে নামল সিবিআই। শনিবার এ বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের অনুমতি চাইল তাঁরা।

সারদা কাণ্ডে প্রমাণ লোপাটের জেরে শিলং-এ প্রাক্তন নগরপাল তথা পুলিশ কমিশনারকে জিজ্ঞাসাবাদের পরেই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সিবিআই। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ তখন সমস্ত তথ্য প্রমাণ দেখএ মন্তব্য করেছিলেন 'ভেরি ভেরি সিরিয়াস।' সিবিআইয়ের স্পষ্ট অভিযোগ ছিল প্রভাবশালী কাউকে বাঁচাতে চাইছেন রাজীব কুমার। শুক্রবার সুপ্রিমকোর্টে হলফনামা দিয়ে সিবিআই চাইছে রাজীবকে গ্রেফতার করার সবুজ সংকেত দিক শীর্ষ আদালত।

প্রসঙ্গত শুধু রাজীব কুমার নয়, পুলিশ কমিশনারেটের আরও বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট অফিসারদেরও এবার হেফাজতে চাইছেন রাজীব। তালিকায় রয়েছে বিধাননগরের প্রাক্তন ডিসি অর্ণব ঘোষের নামও। তথ্য লোপাট-সহ নানা দুষ্কর্মে রাজীবের সাহায্য নিয়েছেন অর্ণব, এমনটাই দাবি সিবিআই-এর। সিবিআই-এর মূল অভিযোগগুলিতে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাকঃ

১ রাজীব শিংলয়ে জিজ্ঞাসাবাদে বেশিরভাগ প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন।

২ সারদা কাণ্ডে তথ্য লোপাটে রাজীব কুমারের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।

৩ সুদীপ্ত সেনের স্পষ্ট ইঙ্গিত থাকলেও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মাতঙ্গ সিংহ ও তাঁর স্ত্রী মনোরঞ্জন সিংহ, সৃঞ্জয় বসু, নলিনী চিদাম্বরমের-র বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেননি রাজীব কুমার।


আগামী সাত দিনে এই হলফ নামার জবাব দিতে হবে রাজ্যসরকারকে। জানাতে হবে কেন রাজীব-সহ অন্য পুলিশ অফিসারকে গ্রেফতার করবে না সিবিআই। 


প্রসঙ্গত ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। চলছে তুমুল প্রচার। এর মধ্যে সিবিআই-এর ধড়পাকড়ের প্রস্তুতি মমতা ব্রিগেডকে চাপে ফেলবে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। অন্য দিকে মমতা বন্দ্যেপাধ্যায় ধর্ণা মঞ্চ থেকে সিবিআই-বিজেপি আঁতাত নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছিলেন। সিবিআই-এর এই সক্রিয়তায় ফের সেই প্রশ্নকেই তাস করবে রাজ্য।