রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আর খুব বেশি দেরি নেই। তারই প্রস্তুতিতে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনকেই পাখির চোখ করেছে তৃণমূল, বিজেপি, এমনকী কংগ্রেস ও বাম জোটও। প্রচারে খামতি রাখছে না কোনও পক্ষই।  বাদ যাচ্ছে না শপিং মলও! এদিকে আবার উপনির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে খড়গপুরের মহকুমাশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন  শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ  নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরা। 

পঞ্চায়েত ভোটের সময় রাজ্যে অশান্তি কম হয়নি। রেহাই পাননি ভোটকর্মীরা। পশ্চিম খড়গপুরেই ভোটকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। উপনির্বাচনেও অশান্তি হবে না তো? মহকুমাশাসকের কাছে খড়গপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার দাবি জানিয়েছে  শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ।  মহকুমাশাসক জানিয়েছেন, উপনির্বাচনে খড়গপুরে পাঁচ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। রেলশহরে ইতিমধ্যে এক কোম্পানি বাহিনী চলেও এসেছে। ভোটের দিন ৯০ শতাংশ বুথেই থাকবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। আর যে বুথগুলিতে বাহিনী থাকবে না, সেই বুথগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও মাইক্রো অবজার্ভার রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। 

এদিকে খড়গপুরে উপনির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলি তৎপরতা তুঙ্গে। ভোটের প্রচারে খড়গপুর শহরে কার্যত চষে বেড়াচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার। রেলশহরে কর্মিসভা করে গিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ১৭ তারিখ ফের প্রচারে আসবেন তিনি।  সোমবার সকাল থেকে খড়গপুরে শহরে দলে বাছাই করা নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা শিব প্রকাশও। গত বিধানসভা ভোটে খড়গপুর থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন খোদ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।  তাই এবার আসনটি ধরে রাখতে চেষ্টার কোনও কসুর করছে না গেরুয়াশিবির।  তবে প্রচারে এখনও পর্যন্ত কোনও হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতাকে নামাতে পারেনি কংগ্রেস ও বাম জোট।