উত্তমা চক্রবর্তী, কোচবিহার: ভেঙে গেল শতাব্দী প্রাচীন প্রথা। করোনাভাইরাস-এর প্রভাব পড়ল কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী মদনমোহন মন্দির-এর রথযাত্রাতেও। প্রতিবছর কোচবিহারের রাজ আমলের এই মদনমোহন মন্দিরের রথযাত্রায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়ে থাকে। সাত দিন ধরে এই রথ যাত্রা উপলক্ষে মেলাও বসে। কিন্তু এই বছর করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বদলে গেল দীর্ঘদিনের প্রথা। রথের পরিবর্তে এবার মদনমোহন মাসির বাড়ি গেলেন একটি সুসজ্জিত গাড়িতে।

বস্তুত একটি মোটরগাড়িকে রথের আদলে সাজিয়ে, তার উপরে বসানো হয় মদনমোহনের সিংহাসন। সাধারণত মদনমোহনের রথের রশি ধরে টানার জন্য বিপুল লোক সমাগম হয়। সামাজিক দূরত্ব সেখানে লঙ্ঘিত হতে বাধ্য। সেই সমস্যা এড়াতেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোটরগাড়িকেই রথ বানানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তারা জানিয়েছিল, গাড়ির উপর অনেকটাই উঁচুতে সিংহাসনে মদনমোহন মূর্তি থাকায় রাস্তা থেকে কিংবা বাড়ির ব্যালকনি থেকে দেবদর্শনে অসুবিধা হবে না।

এত করেও অবশ্য প্রশাসন আশ্বস্ত করতে পারেনি মদনমোহন-এর ভক্তদের। এদিন মদনমোহন মন্দিরে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা ছিল। কার্যকালে মন্দিরের বাইরে বিপুল ভিড় দেখা গেল। হাজার হাজার মানুষ সামাজিক দূরত্ব ভুলেই রাস্তার দুই ধারে ভিড় জমিয়েছিলেন মদনমোহনের দর্শনের জন্য। তাদের সামলাতে পারেনি পুলিশ বা প্রশাসন।

১৮৯০ সালে কোচবিহারের এই মদনমোহন মন্দির স্থাপিত হয়েছিল। তারপর থেকেই শুরু হয়েছিল এই রথযাত্রাও। এবারই প্রথম প্রথা ভেঙে রথের পরিবর্তে গাড়িতে করে যাত্রা করলেন মদনমোহন। কিন্তু যাদের জন্য এতকিছু করা, সেই ভক্তগণ নিজেদের ভালোটা বুঝলেন কই? একবারও ভাবার চেষ্টা করলেন না, কেন শতাব্দী প্রাচীন এই প্রথা ভাঙছেন মদনমোহন। করোনা হলে তো তিনিও বাঁচাতে পারবেন না।