হাতে মাত্র আর কয়েকটা মাস। তারপরই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। করোনা মহামারির সময়ে জনসংযোগের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমগুলি। এই অবস্থায় আরও বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে, বিশেষতঃ 'শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম'এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য বঙ্গ সিপিএম আনল এক নতুন অ্যাপ, 'লেফট স্কোয়াড'। সিপিএম-এর দাবি অনুযায়ী একদিকে এর মাধ্যমে যেমন 'মানুষের যন্ত্রণা' তুলে ধরা হবে, সেইসঙ্গে এই অ্যাপে থাকছে একটি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে। যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যদি আমফান ও করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় অর্থদান কতরতে চান, সহজেই তা করা যাবে।

গত শতাব্দীর ৭০'এর দশকে কম্পিউটারের বিরোধিতা করেছিল বামপন্থীরা। পাঁচ দশক পর সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে এসে তারাই চালু করল মোবাইল অ্যাপ। বুধবার, সিপিএম-এর রাজ্য সদর দপ্তর মুজফ্ফর আহমদ ভবনে লেফট স্কোয়াড অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন দলের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, দেশ ও রাজ্য়ের চরম অরাজকতার সময়ে অধিকাংশ সংবাদমাদ্যম সরকার ও শাসক দলের পোষ্যের মতো আচরণ করছে। সাদা-কালোর প্রভেদ করার জন্যই এই ধরণের একটি অ্যাপ প্রয়োজনীয় ছিল।

মহম্মদ সেলিম আরও জানিয়েছেন এই অ্যাপটির মূল উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের অব্যক্ত যন্ত্রণা এবং দুর্দশার কথা ব্যক্ত করা।  করোনা মহামারি ও আমফান ঝড়ের ফলে লক্ষ-কোটি মানুষ দুর্দশাগ্রস্ত। তাঁদের সকলের কাছে কেন্দ্র বা রাজ্যের সরকারি সহায়তা পৌঁছচ্ছে না। এই অবস্থায় আন্তরিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজটা বামপন্থীরাই করছেন। সেই কাজ সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য দরকার অর্থের। সক্ষম এমন অনেকেই আছেন যাঁরা সেই অর্থের জোগান দিতে চান বলে দাবি করেছেন সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য। সেই কারণেই অর্থ সংগ্রহের জন্য অ্যাপটিতে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে রাখা হয়েছে।

একইসঙ্গে এই অ্যাপের মাধ্যমে তরুণ শিক্ষিত যুবদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছে সিপিএম। মহম্মদ সেলিম খোলাখুলি বলেছেন, করোনা মহামারির মতো পরিস্থিতিতে মানুষকে আরও বিজ্ঞানমুখী ও যুক্তিনির্ভর করে তুলতে হবে। তার জন্য তাঁরা নতুন প্রজন্মের শিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীদের চাইছেন। লেফট স্কোয়াড অ্যাপের মাধ্যমে সেই অংশকে ছোঁয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেলিমের কথায় এই দিক থেকে 'মানুষের আশা নিরসনের সেতু' হয়ে উঠবে এই অ্যাপ। তা আগামী নির্বাচনে সিপিএম-এর আশা কতটা মেটাতে পারবে সেটাই দেখার।