ক্রমশ শক্তি বাড়াতে বাড়াতে এগিয়ে আসছে ঘুর্ণিঝড় যশ (Cyclone Yaas)। সরাসরি রাজ্যে আছড়ে না পড়লেও, ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা মোটেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। রাজ্যের অন্যান্য অংশের মতো আসন্ন ঘুর্ণিঝড়ের দাপটে রাজারহাট-নিউটাউন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এক গুচ্ছ পরিকল্পনা নিল হিডকো (HIDCO) ও এনকেডিএ (NKDA) কর্তৃপক্ষ। এশিয়ানেট নিউজ বাংলাকে, সোমবার এমনটাই জানিয়েছেন হিডকোর চেয়ারম্যান দেবাশীষ সেন।
 এরমধ্যে করোনার টিকাকরণ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার মতো কঠোর পদক্ষেপও রয়েছে।  

দেবাশীষ সেন জানিয়েছেন, হিডকোর পক্ষ থেকে সাইক্লোন যশের জন্য একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এই কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর ১৮০০১০৩৭৬৫২। এখানে ফোন করে বাসিন্দারা, গাছ পড়া থেকে শুরু করে অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা - সমস্ত রকম সাহায্য চাইতে পারেন। এছাড়া, বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারের নীচে এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভের নতুন কার পার্কিং বিল্ডিং-এর দুটি তল নিয়ে - মোট দুটি সাইক্লোন সেন্টার খোলা হচ্ছে। এলাকার কাউকে নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তরিত করতে হলে, দুটি জায়গায় কোনও একটিতে রাখা হবে।

এর সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ের জন্য সামনের কয়েকটা দিন বন্ধ রাখা হচ্ছে করোনার টিকাকরণ। করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় তরঙ্গের মধ্যে, টিকাকরণ অত্যন্ত জরুরি হলেও, কিছুটা বাধ্য হয়েই এই প্রক্রিয়া বন্ধ রাখছে স্থানীয় প্রশাসন। তাদের আশঙ্কা, ঝড়ের সময় কোনও কারণে বিদ্যুত সংযোগের সমস্যা হলে, বহু ডোজ ভ্যাকসিন নষ্ট হবে। এই কারণেই আপাতত হাতে থাকা সব করোনা টিকা রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের জিম্মায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সেইসঙ্গে নজর রাখা হচ্ছে যাতে সব জেনারেটরে ডিজেল থাকে।

এর সঙ্গে সঙ্গে চলছে গাছ ছাঁটাইয়ের কাজ। আমফানের সময় নিউ টাউনেও প্রচুর গাছের ডাল ভেঙে পড়েছিল। এই এলাকার আরেক সমস্যা জল জমার সমস্যা। অতি বৃষ্টিতে সেইরকম পরিস্থিতি তৈরি হলে, নিষ্কাশনের পাম্পগুলিকে তৈরি রাখা হচ্ছে, জল বের করে দেওয়ার জন্য। এর পাশাপাশি নিউটাউনে প্রচুর নির্মাণকাজ চলছে। আর তার জন্য বহু উঁচু উঁচু টাওয়ার ক্রেন রয়েছে। ঝডড়ে সেগুলি ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সেগুলিকে শক্ত করে কোনও কাঠামোর সঙ্গে আটকে রাখার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত বছর আমফানের সময় তীব্র ঝড়ে বেশ নিউটাউনের বেশ কিছু সোলার প্যানেলের ক্ষতি হয়েছিল। বস্তুত, নিউটাউনে প্রচুর সোলার প্যানেল রয়েছে। এইবার যাতে গগতবারের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেইজন্য সেগুলোর নাট বল্টু টাইট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারদের।

ত্রিফলা আলোর তার থেকে বিদ্যুৎপৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সেক্টর ফাইভ এবং নিউটাউন এলাকার ত্রিফলা লাইটগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাই মাস্ট লাইটগুলিকেও নিভিয়ে রাখতে বলা হয়েছে।