স্থলভাগে ঢুকে গিয়েছে ঘূর্ণিঝড় যশ। ঝড়ের থেকেও পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত বেশি ক্ষতি হয়েছে সমুদ্র-নদীর জল প্লাবিত হয়ে। উপকূলীয় জেলাগুলিতে মোট ১৩৪টি বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নেতৃত্বে ঘূর্ণিঝড় যশ-এর প্রস্তুতির পর্যালোচনা বৈঠক হলেও, বুধবার দুপুর পর্যন্ত নবান্নে নয়াদিল্লি থেকে কোনও ফোন আসেনি। তবে কি ফের বাংলাকে দূরেই সরিয়ে দিল কেন্দ্র?

বিভিন্ন বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করলেও, এই ক্ষেত্রে কিন্তু, এমন প্রশ্নকে একেবারেই প্রশ্রয় দিলেন না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার দুপুরে নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেখানেই এক সাংবাদিক এই বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করতে যেতেই তাঁকে থামিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিজ্ঞ এবং দায়িত্ববান শাসকের মতোই তিনি বলেন, এটটা একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এইক্ষেত্রে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। তিনি জানান, কেন্দ্র-রাজ্য হাতে হাতে মিলিয়েই ঘূর্ণিঝড় যশ-এর মোকাবিলায় কাজ করেছে।

কেন্দ্র-রাজ্য হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার কথা বললেও, এক বছর আগের আমফান ঘূর্ণিঝড়ের কথা ভুলতে পারেননি তিনি। এদিনও তাঁর মুখে সাইক্লোন আমফানের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। আমফানের দাপটে বিরাট ক্ষতির মুখে পড়েছিল দক্ষিণবঙ্গ। কিন্তু,তারপরে কেন্দ্র শুধুমাত্র ১০০০ কোটি টাকার অগ্রিম সহায়তা করেছিল, আর কোনও সাহায্য যে মোদী সরকার পাঠায়নি, সেই কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি জানান, এইবার ক্ষতি ঠিক কতটা, তার হিসাব কষা এখনও সম্ভব হয়নি। সব খোঁজ খবর নিয়েই কেন্দ্রের কাছে সহায়তা চাওয়া হবে। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময়, বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের সহায়য়তার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়সরকার কেন বাংলাকে বঞ্চিত করে, তাই নিয়ে সরব হয়েছিলেন মমতা।