শেষ পর্যন্ত আশঙ্কাই সত্য়ি হল। দিঘার সমু্দ্রে ভেসে উঠল নিখোঁজ বালক আবির ধাড়ার দেহ। শনিবার সকালেই দিঘার জগন্নাথ ঘাট থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল ছোট্ট আবির। বাবা- মায়ের গাফিলতিতেই শিশুটির জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে, এমনই মনে করছে পুলিশ। 

গত তেরো সেপ্টেম্বর হুগলির জলঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা আবির বাবা, মা এবং দিদির সঙ্গে দিঘায় ঘুরতে গিয়েছিল। ষাট জনের একটি পর্যটকদের দলের সঙ্গে দিঘায় যায় তারা। কিন্তু শনিবার সকালে আবির এবং তার দু' বছরের বড় দিদিকে সমু্দ্রের পাড়ে বসিয়ে রেখেই স্নান করতে যান তার বাবা- মা। কিছুক্ষণ বাদে তাঁরা ফিরে এসে দেখেন, আবির নেই। এর পর দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুজি করলেও আবিরকে পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত রবিবার দিঘা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন আবিরের বাবা- মা। 

শেষ পর্যন্ত এ দিন  সকালে জগন্নাথ ঘাট থেকে এক কিলোমিটার দূরে মেরিন বিচের কাছে সমুদ্রের জলে ভেসে ওঠে আবিরের দেহ। সমু্দ্রের পাড়েই বোল্ডারের উপরে দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। দেহটি নজরে আসতেই স্থানীয় পুলিশে খবর দেন। দিঘা থানা থেকে খবর দেওয়া হয় আবিরের বাবা- মাকে। পুলিশের সন্দেহ, মা- বাবা স্নানে ব্যস্ত থাকায় নজর এড়িয়ে কোনওভাবে সমুদ্রে নেমে গিয়েছিল আবির। তার পরেই জলে তলিয়ে যায় ছোট্ট শিশুটি।

ছেলের মৃতদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবিরের বাবা- মা। তাঁরা স্বীকার করে নেন, নিজেদের গাফিলততিতেই সন্তানকে হারাতে হল তাঁদের। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ। বেড়াতে এসে যে এভাবে সন্তানকে হারাতে হবে, তা ভাবতেও পারেননি তাঁরা। তাঁদের আশা ছিল, হারিয়ে গেলেও সুস্থ শরীরেই হয়তো ফিরে পাওয়া যাবে আবিরকে।