কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে নিগ্রহে অভিযুক্ত ছাত্র দেবাঞ্জন বল্লভ এবং তাঁর বান্ধবী মারধরের অভিযোগ উঠল একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। বুধবার সন্ধ্যায় বর্ধমানের আলিশ বাসস্ট্যান্ডে দেবাঞ্জন এবং তাঁর বান্ধবীর উপরে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। বাবুল সুপ্রিয়কে নিগ্রহ করার জন্যই তাঁর উপরে হামলা হয়েছে বলে ওই দুষ্কৃতীরা তাঁকে শাসায় বলে দাবি দেবাঞ্জনের। ঘটনায় বর্ধমান থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন দেবাঞ্জন। তাঁর অভিযোগ, এবিভিপি এবং আরএসএস-এর গুন্ডাবাহিনী এই ঘটনায় জড়িত। 

গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিগৃহীত হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে সংস্কৃত কলেজের ছাত্র বর্ধমানের বাসিন্দা দেবাঞ্জন বল্লভের নাম। সোশ্যাল মিদেবাঞ্জন জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতা ফেরার জন্য বান্ধবীকে নিয়ে বর্ধমান বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে ধরতে এসেছিলেন তিনি। বাসে ওঠার সময়ই অতর্কিতে একদল যুবক তাঁর উপরে চড়াও হয়। ডিয়ায় বিভিন্নভাবে হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল দেবাঞ্জনকে। তার পরেই এ দিনের হামলা। 

বাস থেকে নামিয়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ছিঁড়ে দেওয়া হয় তাঁর গেঞ্জি। দেবাঞ্জনের বান্ধবীকেও রেয়াত করেনি হামলাকারীরা। 

ওই ছাত্র জানিয়েছেন, প্রথমে আক্রমণের কারণ না বললেও পরে এক নেতা ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে তাঁকে বলে, বাবুল সুপ্রিয়কে নিগ্রহ করার জন্যই তাঁকে মারধর করা হচ্ছে। তাঁকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আক্রান্ত ছাত্রের। রাতেই বর্ধমান থানায় অভিযোগ জানান দেবাঞ্জন। তাঁর অভিযোগ, হামলাকারীরা আরএসএস এবং এবিভিপি-র গুন্ডাবাহিনী। যদিও তিনি কাউকেই চিনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন দেবাঞ্জন। 

বাবুলকে নিগ্রহের ঘটনার পরেই প্রথমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে ছেলের হয়ে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন দেবাঞ্জনের মা। ছেলের কোনও ক্ষতি হবে না বলে তাঁকে আশ্বস্তও করেছিলেন বাবুল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর চুল টানার অভিযোগ উঠেছিল দেবাঞ্জনের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ছাত্রের অবশ্য দাবি ছিল, তিনি ভুল কিছু করেননি। যা করেছেন, নিজের আত্মরক্ষার্থে করেছেন।