থাকার জায়গা অনেক দিন আগেই তৈরি হয়েছিল। সেখানে কৃত্রিম গভীর জলাশয়, ফোয়ারা, ঝর্না থেকে ফ্যান, ব্যবস্থা রয়েছে সবকিছুরই। শুধু তাদের চারজনের আসার অপেক্ষা ছিল। 

অবশেষে ২৮০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আলিপুর চিড়িয়াখানায় এসে পৌঁছল বহু প্রতীক্ষিত চার অতিথি। বৃহস্পতিবার সকালে চার- চারটি অন্যাকোন্ডার ছানা এসে পৌঁছল আলিপুর চিড়িয়াখানায়। তবে এই অ্যানাকোন্ডাগুলির জন্ম অবশ্য এ দেশেই। মাদ্রাজ থেকে অ্যানাকোন্ডাগুলি আনা হয়েছে কলকাতায়। নতুন অতিথিদের দেখতে হাজির ছিলেন নতুন দায়িত্ব পাওয়া বনমন্ত্রী ব্রাত্য বসু। আপাতত এক মাস নজরদারিতে রাখার পরে অ্যানাকোন্ডাগুলিকে দর্শকদের সামনে নিয়ে আসা হবে। 

চিড়িয়াখানার তরফে জানা গিয়েছে, এখন চার মাস মতো বয়স অ্যানাকোন্ডাগুলির। দীর্ঘ যাত্রাপথ পেরিয়ে এলেও ইয়েলো অ্যানাকোন্ডাগুলি সুস্থই রয়েছে। যেহেতু তারা জলে থাকতেই বেশি পছন্দ করে তাই চিড়িয়াখানায় আসার পর থেকেই বড় পাত্রে রাখা জলের মধ্যেই আশ্রয় নিয়েছে অ্যানাকোন্ডাগুলি। প্রত্যেকটিই চার থেকে সাড়ে চার ফুট মতো লম্বা হয়ে গিয়েছে। 

মূলত দক্ষিণ আমেরিকার বাসিন্দা এই হলুদ অ্যানাকোন্ডাগুলি প্রায় ১৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। তবে সবুজ অ্যানাকোন্ডার তুলনায় এই প্রজাতির অ্যানাকোন্ডাগুলি আকারে কিছুটা ছোট হয়। 

আপাতত অ্যানাকোন্ডাগুলি খাবারের রুচির দিকে নজর রাখতে চান চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। চিড়িয়াখানার অধিকর্তা আশীষ সামন্ত জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে অ্যানাকোন্ডাগুলিকে ছোট ইঁদুর, মাছ এবং মুরগি দেওয়া হবে। তারা কী খেতে বেশি পছন্দ করছে, সেই অনুযায়ী তৈরি হবে ডায়েট চার্ট। সপ্তাহে একদিন খেতে দেওয়া  হবে  সাপগুলিকে।  অ্যানাকোন্ডাদের জন্য অনেক দিন ধরেই চিড়িয়াখানায় প্রস্তুতি চলছিল। যে ঘরে তাদের রাখা হবে সেখানে যথাসম্ভব গাছগাছালি, ফোয়ারা, ঝর্না, তিন মিটার গভীর জলাশয় তৈরি করা হয়েছে। অ্যানাকোন্ডাদের আরামে লাগানো হয়েছে ফ্যানও। অ্যানাকোন্ডাদের দেখা গেলে চিড়িয়াখানার আকর্ষণ যে অনেকটাই বাড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। 

বনমন্ত্রী জানান, খুব শিগগিরই সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানার সঙ্গে আলিপুর চিড়িয়াখানার একটি মোউ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। তার পরে চিড়িয়াখানার মান আরও উন্নত হবে বলেই দাবি বনমন্ত্রীর। কিছু দিনের মধ্যেই আলিপুর চিড়িয়াখানায় ব্ল্যাক প্যান্থার, হায়না, নেকড়ে বাঘের মতো আরও কিছু জন্তুদের আনা হবে বলে জানিয়েছেন ব্রাত্য বসু।