চলন্ত বাসে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন এক যাত্রী।  অসাবধানতায় জানলার পাল্লা পড়ে হাতের আঙুল কেটে গিয়েছিল ওই মহিলার।  বাস থামিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রোপচার করে কাটা আঙুল জুড়ে দিলেন ওই বাসেরই যাত্রী এক শল্য় চিকিৎসক। মানবিকতার সাক্ষী থাকল পুরুলিয়া।

আহত যাত্রীর নাম নার্গিস বিবি। বাড়ি, পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের নতুনডি গ্রামে। সোমবার সকালে পুরুলিয়া থেকে কলকাতাগামী দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার একটি বাসের উঠেছিলেন বছর ছাব্বিশের ওই তরুণী। আসানসোল হয়ে বাসটি যখন কলকাতার দিকে যাচ্ছিল, তখনই ঘটে দুর্ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বাসের একদম শেষের দিকে জানলার ধারে বসেছিলেন নার্গিস। তাঁর ডান হাতটি ছিল বাসের জানলার উপরে।  নিতুড়িয়া থানা গোবাক গ্রামে কাছে বাসটি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েছিল। বাসটি যখন ফের চলতে শুরু করে, তখন জানলার শাটারটি সজোরে নার্গিসের হাতের উপরে পড়ে যায়। ডান হাতের দুটি আঙুলে গুরুতর আঘাত পান তিনি। গলগল করে রক্ত বেরতো শুরু করে, এমনকী, একটি আঙুল শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়।  যন্ত্রণায় চেঁচিয়ে ওঠেন। ঘটনার আকস্মিকতায়  প্রথমে হকচকিয়ে গিয়েছিলেন বাসের অন্য যাত্রীরাও।

দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার যে বাসে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন নার্গিস, সেই বাসেই কলকাতা যাচ্ছিলেন অর্ণব চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তি।  পেশায় তিনি শল্য চিকিৎসক। পুরুলিয়ার এক বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন, থাকেন পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন,  বাস থামিয়ে তড়িঘড়ি নার্গিসকে নিতুড়িয়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান অর্ণববাবুই। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে অস্ত্রোপচার করে ওই মহিলার আঙুলটি ফের হাতের সঙ্গে জুড়ে দেন তিনি।  ব্যান্ডেজ বাঁধা হাত নিয়েই  ফের বাসে চেপে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান নার্গিস বিবি ও তাঁর চিকিৎসক অর্ণব চক্রবর্তী।  
যাত্রীদের অসাবধানতায় চলন্ত বাসে আঙুল কেটে যাওয়ার ঘটনা নতুন। খাস কলকাতায় এমন ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকরা বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে মধ্যে কাটা আঙুলটি যদি হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া না যায়, তাহলে অঙ্গহানির সম্ভাবনা থাকে। তাই এক্ষেত্রে যেভাবে তৎপরতার সঙ্গে চিকিৎসক অর্ণব চক্রবর্তী রোগীকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রোপচার করেছেন, তা প্রশংসনীয়।