বৃহস্পতিবার থেকে নিম্নচাপের বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে। বৃষ্টির জলে ফুলে ফেঁপে উঠেছে নদীগুলি। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে বিদ্যাধরী নদীও রণংদেহি মূর্তি ধারন করেছে। নদীতে বিপদসীমার উরর দিয়ে জল বইছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। এ অবস্থায় হাড়োয়ার তেঁতুলআঁটি গ্রামে বিদ্যাধরী নদীর বাঁধ পুনরায় ভেঙে যাওয়ায় এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ফের সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের তরফে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাড়োয়ার ব্লকের সহ সভাপতি নুরুল হাসান মোল্লা। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টির কারনে বসিরহাট মহকুমার মিনাখা ও হাড়োয়া ব্লকে বিদ্যাধরী নদীর বাঁধ জলের তোড়ে ভেঙে গিয়েছিল। শুক্রবার হাড়োয়া ব্লকের খাসবালান্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের তেঁতুলআটি গ্রামে বিদ্যাধরী নদীর বাঁধ পুনরায় ভেঙে যায়। তার জেরে তেঁতুলআটি, নাসিরহাটি, দক্ষিণ লক্ষ্মীকাটি সহ বেশ কয়েকটি গ্রামে নোনা জল ঢুকে যায়। পাশাপাশি, চাষের জমি ও মেছোঘেরিতে নোনাজল ঢুকে যাওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসীরা।

নতুন করে বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সেচ দফতরের আধিকারিকরা। আগাম সতর্কতায় তেঁতুলআটি সহ অন্যান্য় গ্রামগুলি থেকে সাধারণ মানুষকে অন্যত্র সরানোর ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। স্থানীয় পঞ্চায়েত ও বিডিও-র সাহায্য়ে ইতিমধ্য়েই গ্রামবাসীদের সরানো হয়েছে। এলাকাকর স্কুলগুলিতে ত্রাণ শিবিরের ব্য়বস্থা করা হয়েছে। দুর্গতরা যাতে কোনও সমস্যায় না পড়েন সেজন্য পর্যাপ্ত পরিমান ত্রাণ সামগ্রীও রাখা হয়েছে। 

ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতির কাজের তদারকি করেন হাড়োয়া ব্লকের সহ সভাপতি নুরুল হাসান মোল্লা। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বাঁধ সংস্কারের কাজ করান তিনি। এর পাশাপাশি, মিনাখায় যে সব জায়গায় বাঁধ ভেঙেছে, সেখানে বাঁধ সংস্কারের কাজ ইতিমধ্য়েই শেষ হয়েছে বলে জানান নুরুল হাসান মোল্লা। দুর্গতদের জন্য প্রশাসনের তরফে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।