একদিকে সারদা কাণ্ডে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে ফের উঠেপড়ে লেগেছে সিবিআই। রাজীবের থেকে প্রকৃত তথ্য পেলেই অনেক বড় মাথাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সিবিআই গোয়েন্দারা। অন্যদিকে লোকসভা ভোট মিটতেই ফের নারদা কাণ্ড নিয়ে তৎপরতা বাড়ালো এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। এ দিনই নারদা কাণ্ডের তদন্তে চারজনকে ডেকে পাঠিয়েছে ইডি। তার মধ্যে রয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায় এবং মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের মেয়ে শ্রেয়া পাণ্ডে। 

২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে সামনে এসেছিল নারদা স্টিং অপারশেন। রাজ্যের একাধিক নেতা. মন্ত্রীদের সেই ভিডিও-তে টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশে এই স্টিং অপারেশনে ওঠা অভিযোগের তদন্তভার যায় ইডি-র হাতে। 

নারদা কাণ্ডে শাসক দলের অন্য বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কলকাতার তৎকালীন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কেও টাকা নিতে দেখা যায়। পরে ইডি-র জেরার সময় শোভন দাবি করেন, তাঁর যাবতীয় ব্যবসার দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের উপরে। সেই সূত্রেই রত্নাদেবীকে ডেকেও একাধিকবার জেরা করেছেন ইডি গোয়েন্দারা। ইডি-র এই জেরা পর্ব চলাকালীনই শোভনের সঙ্গে রত্নার দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছয়। ইডি সূত্রে খবর, আগামী ৬ জুন বেশ কয়েকটি নথি নিয়ে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে ডেকে পাঠানো হয়েছে। 

অন্য দিকে নারদা তদন্তে এবার ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের মন্ত্রী সাধন পান্ডের মেয়ে শ্রেয়া পান্ডেকেও ডেকে পাঠিয়েছে ইডি। নারদা কাণ্ডের স্টিং অপারেশনে অবশ্য শ্রেয়া পান্ডেকে দেখা যায়নি। তিনি এই মামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না হলেও শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেনের সূত্রেই তাঁকে ডাকা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর। আগামী ১৩ জুন ইডি দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে শ্রেয়াকে। এই মুহূর্তে অবশ্য বিদেশে রয়েছেন শ্রেয়া। তাঁর দাবি, ইডি নোটিশের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। 

রত্না চট্টোপাধ্যায় অবশ্য জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট দিনে গিয়েই ইডি গোয়েন্দাদের হাতে যাবতীয় নথি তুলে দিয়ে আসবেন তিনি। 

রত্না এবং শ্রেয়ার পাশাপাশি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এবং মলয় ভট্টাচার্য নামে দু' জনকেও ডেকে পাঠিয়েছে ইডি। এই দু' জনও শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত শোভন এবং রত্নার দাম্পত্য কলহের সময়ই অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম প্রথম সামনে আসে। তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ করেন শোভন। অভিজিৎ এবং মলয়কে যথাক্রমে ১০ এবং ১১ জুন হাজিরা দিতে বলেছে ইডি। অর্থাৎ শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ব্যবসার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত এবং যাঁদের সঙ্গে প্রাক্তন মেয়রের আর্থিক লেনদেন হয়েছে, তাঁদেরকেই নোটিশ পাঠিয়েছে ইডি।