জিয়াগঞ্জ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আরও একধাপ এগোল পুলিশ। অভিযুক্ত উৎপল বেহরাকে টিআই প্যারেডে শনাক্ত করলেন ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী। এর ফলে উৎপলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে অনেকটাই সুবিধে হবে তদন্তকারীদের। 

গত ৮ অক্টোবর মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের লেবুবাগানের বাড়িতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, পুত্র- সহ খুন হন পেশায় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক উৎপল বেহরা। খুন করে পালানোর ঠিক আগে বন্ধুপ্রকাশবাবুর বাড়িতে এসে উৎপলকে দেখে ফেলেন দুধওয়ালা রাজীব দাস। তিনিই প্রথম ঘটনার কথা সবাইকে জানিয়েছিলেন। সোমবার সেই রাজীব দাসই লালবাগ উপ সংশোধনাগারে উৎপলকে সনাক্ত করেন। বিমার টাকা আত্মসাৎ করার রাগেই উৎপল সপরিবার ওই শিক্ষককে খুন করেছে বলে পুলিশের দাবি।

ঘটনার পর রাজীববাবু তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন, বন্ধুপ্রকাশবাবুর বাড়ি থেকে এক ব্যক্তিকে গেঞ্জি, প্যান্ট পরে পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যেতে দেখেথিলেন তিনি। সেই কারণেই উৎপলকে সনাক্ত করার জন্য রাজীববাবুকে ডাকা হয়েছিল। 

টিআই প্যারেডের জন্য সংশোধনাগারের অন্যান্য কয়েদিদের মাঝখানে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় উৎপলকে। সূত্রের খবর,কিছুক্ষণের মধ্যেই উৎপলকে শনাক্ত করেন দুধবিক্রেতা রাজীব। পুরো বিষয়টি তদারকি করেন লালবাগ মহাকুমার পদাধিকারী এক ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার অফিসার।যদিও এই ব্যাপারে পুলিশের তরফ থেকে সংবাদমাধ্যমকে কিছুই জানানো হয়নি। 

জিয়াগঞ্জ হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পর গত ১৫ অক্টোবর উৎপল বেহরাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে দোষ স্বীকার করে তদন্তে সহযোগিতা করছিল উৎপল। কিন্তু সম্প্রতি গোপন জবানবন্দি নেওয়ার জন্য আদালতে হাজির করানো হলে উরপল বেঁকে বসে। ফলে তাঁর গোপন জবানবন্দি নথিভুক্ত করতে পারেননি বিচারক। তবে ইতিমধ্যেই দুধ বিক্রেতা রাজীব দাস এবং বন্ধুপ্রকাশ পালের বাড়ির পরিচারিকা সুনীতা সরকারের গোপন জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন বিচারক। টিআই প্যারেডে উৎপলকে শনাক্ত করার বিষয়ে অবশ্য কিছু বলতে চাননি রাজীববাবুও। তিনি শুধু বলেন, 'যা বলার আদালতকে বলেছি।'