'দিদিকে বলো'- র প্রচারে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন দুই তৃণমূল বিধায়ক। সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশাপুরের ১২ নম্বর অঞ্চলের ঘোষপুর গ্রামে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন স্থানীয় বিধায়ক শিউলি সাহা। অন্যদিকে দাসপুরের সীতাপুরে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন সেখানকার বিধায়ক মমতা ভুইঞা। মূলত স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলেই দুই বিধায়ককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। 

মঙ্গলবার কেশপুরের ঘোষপুর অঞ্চলে গেলে বিধায়ক শিউলি সাহার গাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন গ্রামবাসীরা। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে স্থানীয় বেশ কিছু তৃণমূল কর্মীও ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, গ্রামের বেহাল রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে মেরামত করা হয় না। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলেই স্থানীয় পঞ্চায়েতের মাথারা সিপিএমের ক্যাডার বলে এলাকাছাড়া করার হুমকি দিচ্ছেন। তৃণমূল কর্মীদের মুখেই এমন অভিযোগ শুনে অস্বস্তিতে পড়ে যান বিধায়ক। শুধু গ্রামের রাস্তাই নয়, ইন্দিরা আবাস যোজনা, গীতাঞ্জলি প্রকল্পের মতো সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধাও পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন গ্রামবাসীরা। শুধুমাত্র পঞ্চায়েতের সদস্য এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠদেরই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।  স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে লিখিতভাবে গ্রামবাসীদের তরফে একটি তালিকাও তুলে দেয়া হয় বিধায়কের হাতে। বিক্ষোভের মুখে পড়ে বিধায়ককে বলতে শোনা যায়, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে গ্রামে এসে তিনি দিনভর পরিস্থিতি নিজে ঘুরে দেখবেন। বিধায়ক গ্রামে রাত কাটানোর আশ্বাস দিলে তবে শান্ত হন গ্রামবাসীরা। 

আরও পড়ুন- কাটমানির সঙ্গে নারীঘটিত অভিযোগ, অনুব্রতকে খোলা চিঠি বীরভূমে

আরও পড়ুন- লজ্জা পাবেন কাটমানি খাওয়া নেতারাও, সরকারি টাকা হাতিয়ে জালে দম্পতি

অন্যদিকে সীতাপুর গ্রামে গিয়ে একইভাবে বিক্ষোভের মুখে পড়েন দাসপুরের বিধায়ক মমতা ভুঁইঞা। সেখানেও তৃণমূল কর্মী, সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় দলীয় বিধায়ককে। সেখানেও 'দিদিকে বলো' কর্মসূচিতেই গিয়েছিলেন মমতাদেবী। স্থানীয় তৃণমূল কর্মী এবং গ্রামবাসীরা বিধায়ককে ঘিরে ধরে বলেন, দাসপুরের গৌরা গ্রাম পঞ্চায়েত সোনামুই  থেকে জ্যোৎঘনশ্যাম  পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় একটি রাস্তার  কাজ প্রায় তিন বছর ধরে বন্ধ। জানা গিয়েছে,নিয়ম মেনে কাজ না হওযায় এলাকার বাসিন্দারাই কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসনিক স্তরে বার বার আবেদন নিবেদন করলেও কাজ আর শুরু হয়নি। এই রাস্তার কাজ না হওয়ায় ফলে সমস্যায় পড়েছেন দশ থেকে বারোটি গ্রামের মানুষ। অভিযোগ, ব্লক স্তরের শাসক দলের নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগে এই রাস্তার কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। এ বিষয়ে দাসপুরের বিধায়ক মমতা ভুঁইঞা বলেন, 'রাস্তা নিয়ে এলাকাবাসীর দাবি যুক্তিসঙ্গত, আমি দ্রুত জেলা প্রশাসকের সাথে এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলব।'

একই দিনে দলের দুই বিধায়ক বিক্ষোভের মুখে পড়ায় স্বভাবতই অস্বস্তিতে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁরা এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে নারাজ।