সংক্ষিপ্ত

পরিসংখ্যান বলছে এই বছর গঙ্গাসাগরে পূণ্য স্নান করেছেন ৩ লক্ষ ভক্ত। পাশাপাশি কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দেন ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৬৬২ জন।

রাজ্যে আতঙ্কের মাঝেই শর্ত সাপেক্ষে গঙ্গাসাগর মেলা (Gangasagar Mela) করার অনুমতি দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। যদিও তারপরেও সংক্রমণ নিয়ে বাড়ছিল উদ্বেগ। এদিকে এই উদ্বেগ-আতঙ্কের আবহেই শেষ হয়ে গেল চলতি বছরের গঙ্গাসাগর মেলা। পুন্যস্নান শেষে এবার বাড়ি ফেরার পথে ভক্তের দল। এদিকে সরকারি পরিসংখ্যান বলছে এই বছর গঙ্গাসাগরে পূণ্য স্নান করেছেন ৩ লক্ষ ভক্ত। পাশাপাশি কপিল মুনির আশ্রমে (Kapil Muni Ashram) পুজো দেন ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৬৬২ জন। এদিকে করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবারে রাজ্য সরকার গঙ্গাসাগরের ই-স্নান এবং ই-দর্শনে জোর দেয়। পরিসংখ্যান বলছে এবারে ই-স্নান (E-Snan in Gangasagar) করেন ২ লক্ষ ৮৮ হাজার ৬০ জন।

অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবারে গঙ্গাসাগরের ই-দর্শনে (E-Darshan of Gangasagar) সামিল হয়েছিলেন প্রায় ৩ কোটি দর্শক। এদিকে মেলা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার থেকেই ধীরে ধীরে গঙ্গাসাগরে পুণ্যার্থীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। শুক্রবার গঙ্গাসাগরে এসে হাজির হন হাজার হাজার ভক্ত। এদিকে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে শুরু থেকেই কপিল মুনির আশ্রম, মেলা চত্বরে দফায় দফায় চলে স্যানিটাইজেশনের কাজ। লকগেট তৈরি করে মন্দির চত্বরে প্রতিবারে ৫০ জন করে ঢুকতে দেওয়া হয়। অন্যদিকে করোনা বিধি মানতে সারা সময়েই মেলা চত্বরে চলে মাইকিং। যদিও তারপরেও করোনা বিধি মানতে যথেষ্ট অনীহা দেখা যায় ভক্তদের মধ্যে। এমনকী সাধু-সন্তদের বিরুদ্ধেও বারেবারে করোনা বিধি উলঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। তবে এই ক্ষেত্রে মনে রাখা ভালো শুরু থেকেই কার্যত গঙ্গাসাগর মেলার বিপক্ষে ছিল চিকিৎসক মহল। এমনকী কলকাতা হাইকোর্টে মেলা বন্ধের দাবি জানিয়ে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের করা হয়।

আরও পড়ুন-আক্রান্ত কমলেও মৃতের সংখ্যায় বড় লাফ বাংলায়, তবে বিধির বেড়া কমায় স্বস্তিতে বঙ্গবাসী

যদিও মেলা করার পক্ষে শুরু থেকই সওয়াল করে আসছিল রাজ্য সরকার। অবশেষে বিতর্কের আবহে দাঁড়িয়েই গঙ্গাসাগর নিয়ে মামালায় শর্তস্বাপেক্ষে অনুমতি দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। পাশাপাশি গঙ্গাসাগর মেলায় যাতে করোনা বিধি পালন করা হয় সেদিকেও নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় রাজ্যের শীর্ষ আদালতের তরফে। যা নিয়েও বিতর্ক দানা বাঁধে। তবে গঙ্গাসাগরের কোভিড বিধির উপর নজরদারি বাড়াতে হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানেই তৈরি করা দেওয়া হয় বিশেষ কমিটি। এদিকে কোভিড বিধি অমান্য করায় মকর সংক্রান্তির দিনে গঙ্গাসাগরের কোস্টাল থানার পুলিশ মেলা চত্বর থেকে ৮৬ জনকে আটক করে বলে জানা যায়। এদিকে সম্প্রতি রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস গঙ্গাসাগর মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করে দেন। এরপরই সাগরের তীরবর্তী এলাকায় ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করার কাজে নামতেও দেখা যায় তাঁকে।