অটোর মধ্যে সোনার গয়না সমেত ব্যাগ ফেলে নেমে গিয়েছিলেন দুই মহিলা। সেই ব্যাগ থানায় ফিরিয়ে দিতে প্রথমে হন্যে হয়ে সেই যাত্রীকে খুঁজলেন প্রবীণ অটোচালক। তার পর থানায় গিয়ে ব্যাগ ফিরিয়ে এসে তবেই স্বস্তি পেলেন তিনি। 

হাজার হাজার টাকার গয়না সমেত ব্যাগ হারিয়ে যে তা ফিরে পাবেন, সে আশা ছেড়েই দিয়েছেছিলেন সুরাইয়া খাতুন নামে এক তরুণী এবং তাঁর পরিবার। অটোচালকের সততায় ব্যাগ ফিরে পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁরাও।

শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বজবজ থানা এলাকায়। বিয়ে বাড়ি থেকে ফেরার সময় নুঙ্গি স্টেশন থেকে বজবজ যাওয়ার অটোয় ওঠেন সুরাইয়া খাতুন এবং তাঁর পরিবারের সদস্য অন্য এক মহিলা। রাত হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার কারণেই গায়ের সোনার গয়নাগুলি খুলে একটি ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখেন তাঁরা। কিন্তু বৃষ্টির মধ্যে অটোতে থেকে নামতে গিয়ে তাড়াহুড়োয় সেই ব্যাগটি অটোতেই ফেলে চলে যান ওই দুই মহিলা। 

যে অটোতে সুরাইয়ারা উঠেছিলেন, সেটি চালাচ্ছিলেন আবদুল সামাদ মোল্লা নামে এক বৃদ্ধ। ওই দুই মহিলা যাত্রী অটো থেকে নেমে যাওয়ার পরে আরও অনেকেই অটোতে ওঠেন। বেশ কিছুক্ষণ পর চা খাওয়ার জন্য তিনি এক জায়গায় খালি অটো নিয়ে দাঁড়ান। তখনই অটোর পিছনে ওই ব্যাগটি চোখে পড়ে চালকের। ব্যাগ খুলে তার মধ্যে সোনার গয়না দেখে চমকে যান তিনি। বুঝতে পারেন, যার ব্যাগ তিনি ততক্ষণে তা খোঁজাখুঁজি শুরু করেছেন। 

ব্যাগের মালিকের খোঁজে ওই অটো রুটেই বেশ কয়েকবার কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে ঘোরাফেরা করেন ওই অটোচালক। যাতে যাঁর ব্যাগ তাঁর চোখে পড়ে। কিন্তু এভাবে বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও ব্যাগের মালিককে খুঁজে না পেয়ে নিজের পাড়ায় যান বজবজের বারো নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল সামাদ। সেখানেই স্থানীয় এক তৃণমূল নেতাকে ঘটনার কথা জানান তিনি। এর পর রবিবার সকালে বজবজ থানায় গিয়ে ব্যাগ ফিরিয়ে দিয়ে আসেন ওই অটোচালক। 

এ দিকে ব্যাগ হারিয়ে মহেশতলা থানায় অভিযোগ জানান সুরাইয়া খাতুনও। বজবজ থানা থেকে ব্যাগের খবর পেয়ে মহেশতলা থানার তরফে সুরাইয়াদের জানানো হয়। রবিবার রাতে বজবজ থানায় গিয়ে ব্যাগ ফিরে পান ওই তরুণী। সেখানে থানার তরফে ডেকে নেওয়া হয়েছিল অটোচালক আবদুল সামাদ মোল্লাকেও। সুরাইয়ার হাতে ব্যাগ ফিরিয়ে দিতে পেরে তখন তৃপ্তির হাসি বৃদ্ধ অটোচালকের মুখে। তিনি বলেন, 'খুশি হয়ে থানার বড়বাবু আমায় পাঁচশো টাকা বরশিস দিয়েছেন। কিন্তু আমি তাও নিতে চাইনি। যাঁর ব্যাগ তাঁকে ফেরাতে পেরেছি, এতেই আমি খুশি।'

ব্যাগের মালিক সুরাইয়া খাতুন বলছেন, 'অটো থেকে নেমে বেশ কিছুটা চলে যাওয়ার পর আমাদের ব্যাগের কথা মনে পড়ে। ব্যাগ ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম, খুব আনন্দ হচ্ছে।'