এক ডজন মানুষের পেটের ভাত জোগাচ্ছে মামার দেওয়া ঘোড়া। সেই ঘোড়া নিয়েই
মাসের মধ্যে অধিকাংশ দিন ভিন জেলায় ঘুরে ঘুরে পরিবারের ক্ষুন্নিবৃত্তি করছেন রফিক।

রফিক হোসেন। বাড়ি মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর থানার ইচ্ছাখালি গ্রাম। স্ত্রী ও আট ছেলে, দুই মেয়ের সংসার টানতে রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করছিলেন। কিন্তু তাতে এক ডজন পেটের ক্ষুন্নিবৃত্তি হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত মামার দেওয়া ঘোড়া জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। সেই ঘোড়া নিয়েই এখন মাসের মধ্যে ২০-২৫ দিন রাজ্যের বিভিন্ন
জেলায় ঘুরে ঘোড়ার নাল, তামা-পিতলের বালা, চেন বিক্রি করে সংসারে সমৃদ্ধি ফিরেছে সংসারে। 

রফিক বলেন, 'পরিবারে এক ডজন সদস্য নিয়ে অথৈ জলে পড়েছিলাম। এর পরেই মামা একটি ঘোড়া দেন। সেই ঘোড়াই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ঘোড়া নিয়েই এক দশক আগে বেরিয়ে পড়ি বাড়ি থেকে। বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বর্ধমান, হুগলি, মালদহ, রায়গঞ্জ সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মাসে একবার করে ঘুরে নাল ও তামা-পিতলের সামগ্রী বিক্রি করে যা আয় হয় তাতেই দিব্যি চলে যায় সংসার।'

এই করেই এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন রফিক হোসেন। পাঁচ ছেলে বিয়ে করে সংসার পেতেছেন। তাঁরা এখন রাজমিস্ত্রির কাজ করে নিজেদের সংসার চালায়। ফলে নিজের সংসার টানতে এবং এক মেয়ের বিয়ের জন্য ষাটোর্ধ্ব রফিককে এখনও ঘোড়া নিয়ে বেরিয়ে পরেন অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্য। 

রামপুরহাট হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় দাঁড়িয়ে রফিক জানান, ঘোড়াকে প্রতিদিন ভুষি, গুড়, খোল খাওয়াতেই চলে যায় দেড়শো টাকা। তাছাড়া নিজের খাওয়া তো রয়েছেই। তবে যেটুকু আয় হয় তাতে দিব্যি চলে যায় সংসার। মাসের মধ্যে পাঁচ-সাত দিন বাড়িতে থেকে ফের বেরিয়ে যান অজানা ঠিকানায়।