লোকসভা নির্বাচনে গোটা উত্তরবঙ্গে ভরাডুবি হয়েছে। তার পরেও যে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কমেনি, উত্তরবঙ্গ সফরের প্রথম দিনেই তা স্পষ্ট হয়ে গেল দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়। দলের কর্মিসভাতেই ফের একবার জেলার নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে মমতা বলেন, 'দল কারও জন্য বিষ পান করবে না।'

সোমবারই উত্তরবঙ্গ সফর শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন দুপুরেই তিনি কোচবিহারে পৌঁছন। সেখানে রাস উৎসবে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। তার আগে এ দিন দুপুরে কোচবিহারে দলের কর্মিসভায় যোগ দেন মমতা। 

উত্তরবঙ্গের অন্যান্য আসনগুলির মতো কোচবিহার লোকসভা আসনটিও এবার তৃণমূলের হাতছাড়া হয়েছে। কর্মিসভায় এই পরাজয়ের জন্য বিজেপি-র টাকার জোরকে দায়ী করেন মমতা। পাশাপাশি ভোটের সময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে অপারেশন চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূলনেত্রী। আক্ষেপের সুরে বলেন, উত্তরবঙ্গ জুড়ে এত উন্নয়নের পরেও মানুষ ভুল বুঝে বিজেপি-কে ভোট দিয়েছে। 

তবে হারের জন্য যে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও অন্যতম মূল কারণ, তা এ দিন স্বীকার করে নিয়েছেন দলনেত্রী। মমতা বলেন, এখন যেভাবে দলের শীর্ষ স্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে জেলার নেতৃত্ব কাজ করছে, ছ' মাস আগে তা হলে কোচবিহারে তৃণমূলকে হারতে হতো না। শুধু তাই নয়, দলের নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'তৃণমূলে  কোনও গ্রুপ নেই। তৃণমূলের একটাই গ্রুপ, সেটা হল জোড়াফুল। তৃণমূল কংগ্রেসে কোনও নেতা নেই, কর্মীরাই আসল।'

কোচবিহারে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সঙ্গে স্থানীয় পুরসভার চেয়ারম্যান ভূষণ সিংয়ের বিবাদ দীর্ঘদিনের। দুই গোষ্ঠীর কোন্দলও শাসক দলের খারাপ ফলের অন্যতম কারণ। বর্তমানে রবীন্দ্রনাথবাবু গুরুতর অসুস্থ হয়ে কলকাতায় চিকিৎসাধীন। কিন্তু কর্মিসভায় উপস্থিত ছিলেন পুরসভার চেয়ারম্যান। তাঁকে উদ্দেশ করে মমতা বলেন, 'তুমি আর রবি আলোর টাকা কে নেবে তা নিয়ে ঝগড়া করবে না। পুরসভাটা তুমি চালাও, এগুলো তোমাকেই দেখে নিতে হবে।' এর পরেই কড়া সুরে মমতা বলেন, 'দল কারও জন্য বিষ পান করবে না। আমার দল খুব রাফ অ্যান্ড টাফ। অনেক কষ্ট করে দলটা করি। আগে যা সময় দিতাম এখন তার থেকেও বেশি সময় দিই, যাতে বাংলার মানুষ ভাল থাকেন।'

মমতার এই দাওয়াইতে কতটা কাজ হয় তা ভবিষ্যতই বলবে। তবে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই যে দলের ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে, তা এ দিন বুঝিয়ে দিয়েছেন মমতা। যে নেতাদের জন্য দলকে ভুগতে হচ্ছে, তাঁদের যে কোনওভাবে রেয়াত করা হবে না, সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। কোচবিহার ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ এবং মুর্শিদাবাদে যাওয়ার কথা। 

এ দিনও কোচবিহারে এনআরসি নিয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেছেন, সব উদ্বাস্তুই এ দেশের নাগরিক। নাগরিকত্ব নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। অসমের উদাহরণ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভেদাভেদ তৈরি করতেই এনআরসি আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে বিজেপি।