রাজ্যে বিজেপি এনআরসি নিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে না। এনআরসি আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। শিলিগুড়িতে এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।


এক সপ্তাহের মধ্য়েই রাজ্য়ে এনআরসি আতঙ্কে ৭ জনের মৃত্য়ুর অভিয়োগ উঠেছে। এমনকী এনআরসি আতঙ্ক রুখতে প্রচার শুরু করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না । রাজ্যে এনআরসি আতঙ্কে মৃত্যুমিছিল বেড়েই চলেছে। এই ঘটনার জন্য বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূল। এবার রাজ্য়ে এনআরসি আতঙ্কে মৃত্যুর জন্য মুখ্য়মন্ত্রীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ।

শিলিগুড়িতে দিলিপবাবু বলেন, 'আমরা কি এনআরসির দাবিতে রাস্তায় নেমেছি। মুখ্যমন্ত্রী এনআরসি-কে বাংলায় ইস্য়ু করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অসমে এনআরসি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, তাই অসমে বিজেপির সরকার সেই কাজ করতে বাধ্য। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পাড়ায় পাড়ায় এনআরসি নিয়ে মিটিং হচ্ছে। এনআরসি আতঙ্কে যদি কেউ মারা যায়, তার দায় মুখ্যমন্ত্রীর।' 

এই বলেই অবশ্য থেমে থাকেননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, '২ লাখ টাকা পাব বলে কেউ যদি এনআরসি আতঙ্কে মারা গেছে বলে দেখিয়ে দেয় তার দায় বিজেপি নেবে না। কেউ তো ডেঙ্গুতে মারা গেলেও এনআরসি আতঙ্কে মারা গেছে বলে দেখাতে পারে। তার দায় কি বিজেপি নেবে।' আর কদিন পরেই রাজ্যে আসার কথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের। পয়লা অক্টোবর নেতাজি ইন্ডোরে এনআরসি নিয়ে সভা করার কথা রয়েছে তাঁর। ইতিমধ্যেই খবর রটে যায়,হেলিকপ্টারে রাজ্যে আসবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিন যার খোলসা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, কোনও হেলিকপ্টার নয়, বিমানেই রাজ্যে আসবেন বিজেপির সভাপতি। তবে এটা ঠিক যে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাংলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

সম্প্রতি রাজ্যে এনআরসি হবেই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দিলীপবাবু বলেন, রাজ্যে ২কোটি মুসলিম অনুপ্রেবশকারী ঢুকেছে। এক কোটি বাংলায় থাকলেও বাকিরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্যে রোহিঙ্গারাও এসে ঘাঁটি গাড়ছে। এরাই রাজ্য়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করছে। রাজ্যবাসীর জীবন জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে। মূলত, মুখ্যমন্ত্রীর সায়তেই এখানে স্বর্গ রাজ্য গড়ে তুলেছে অনুপ্রবেশকারীরা। সেকারণে রাজ্যে অবশ্যই এনআরসি হবে। রাজ্য সরকার বাধা দিলে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে এনআরসি হবে রাজ্যে।