রাজ্যে চালু হয়নি এখনও। তার আগেই এনআরসি ইস্য়ুতে বিজেপিকে পিছনে ফেলে দিল শাসক দল। এনআরসির আতঙ্কে মৃতের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা দিল জেলা প্রশাসন। স্বাভাবিকভাবেই মমতা সরকারের প্রতি আশ্বস্ত হল পরিবার। 

শুরুতেই বাজিমাত, এনআরসি ইস্যুতে বিজেপিকে ব্যাকফুটে ফেলে দিল মমতার সরকার। সম্প্রতি রাজ্যে এনআরসি হবেই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দিলীপবাবু বলেন, রাজ্যে ২কোটি মুসলিম অনুপ্রেবশকারী ঢুকেছে। এক কোটি বাংলায় থাকলেও বাকিরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্যে রোহিঙ্গারাও এসে ঘাঁটি গাড়ছে। এরাই রাজ্য়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করছে। রাজ্যবাসীর জীবন জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে। মূলত, মুখ্যমন্ত্রীর সায়তেই এখানে স্বর্গ রাজ্য গড়ে তুলেছে অনুপ্রবেশকারীরা। সেকারণে রাজ্যে অবশ্যই এনআরসি হবে। রাজ্য সরকার বাধা দিলে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে এনআরসি হবে রাজ্যে।

বিজেপির এই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এনআরসি নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। এনআরসি আতঙ্কে দোসর হয় রাজ্য সরকারের ডিজিটাল রেশন কার্ড প্রকল্প। বেশিরভাগ জায়গায় ডিজিটাল রেশন কার্ডকেই এনআরসির মূল নাগরিকপঢ্জীর মূল হাতিয়ার হিসাবে ভাবতে শুরু করে রাজ্যবাসী। জেলায় জেলায় ডিজিটাল রেশন কার্ড বানানোর ধুম পড়ে যায়। অনেক জায়গায় নাগরিক হওয়ার প্রামাণ্য় নথি না পেয়ে আত্মহত্য়ার পথ বেছে নেয় একাংশ। এদের বেশিরভাগেরই অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে হত্য়ে দিয়ে নথি মেলেনি। তাই ভিটেছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় আত্মহত্য়ার পথ বেছে নিতে হয়েছে তাঁদের। এরকমই জানিয়েছে, এনআরসি আতঙ্কে আত্মহত্য়াকারী পরিবারের লোকজন। ইতিমধ্যেই রাজ্যে এনআরসি আতঙ্কের বলি হয়েছেন সাত জন।

সম্প্রতি মুখমন্ত্রীর ঘোষণা  অনুযায়ী,এনআরসি আতঙ্কে ডিজিটাল রেশন কার্ড করতে গিয়ে মৃতের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা সাহায্য দেয় জেলা প্রশাসন। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের বাসিন্দা মন্টু সরকারের পরিবারের হাতে সোমবার এই চেক তুলে দেন মহকুমা শাসক সদর ঈশা মুখোপাধ্যায় ও বিডিও। মৃতের স্ত্রী মজিদা বিবির হাতে মহকুমা শাসক সদর ঈশা মুখোপাধ্যায় এই চেক তুলে দেন। 

গত ২০ সেপ্টেম্বর বালুরঘাটে বিডিও অফিসে এনআরসি আতঙ্কে ভিড় জমায় এলাকার বাসিন্দারা। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ বিডিও অফিস চত্বরেই মথা ঘুরে পরে যান মন্টু সরকার। পরে  মৃত্যু হয় তাঁর। এনআরসির আতঙ্কে রাজ্যে বেশ কয়েকটি জেলায় মৃত্যুর ঘটনার প্রকাশ্যে আসতেই মৃতদের পরিবারকে দুই লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই নির্দেশ মতো  মৃতের পরিবারে পাশে দাঁড়ায় জেলা প্রশাসন।