রাগ করে বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন স্ত্রী। অনুনয়, বিনয় থেকে শুরু করে হুঁশিয়ারি, কোনও কিছুতেই ফিরতে রাজি হননি স্ত্রী। আর সেই রাগে শ্বশুড়বাড়িতেই আগুন লাগিয়ে দিল জামাই। যার জেরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ওই পরিবারের দুই শিশু-সহ তিনজন গুরুতর জখম। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ থানার রসিদপুর গ্রামে।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত জামাই ভগীরথ মহলদারের সঙ্গে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ দিনই ধৃতদের রায়গঞ্জ আদালতে তোলা হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় ১৫ বছর আগে  করনদিঘির বাসিন্দা ভগীরথ মহলদারের সঙ্গে বিয়ে হয় কালিয়াগঞ্জের বাসিন্দা স্বপ্না মহলদারের। তাঁদের তিনটি কন্যাসন্তান রয়েছে। 

অভিযোগ, নানা কারণে দীর্ঘ দিন ধরেই স্ত্রী স্বপ্নাদেবীর উপরে অত্যাচার চালাত ভগীরথ। সপ্তাহখানেক আগে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদকে কেন্দ্র করে স্বপ্নাদেবীকে ফের মারধর করে। এর পরেই স্বপ্নাদেবী তাঁর ছোট মেয়েকে নিয়ে কালিয়াগঞ্জের রসিদপুরে বাপের বাড়িতে চলে আসেন। 

এর পর থেকেই ভগীরথ স্ত্রীকে ফিরিয়ে আসার জন্য একাধিকবার ফোনে অনুরোধ করে। তাতে কাজ না হওয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকেদের সে ফোনে হুমকি দিতে থাকে বলে অভিযোগ৷ এমন কী তাঁদের প্রাণে মারারও হুমকি সে দেয় বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু অনড় স্বপ্নাদেবী তার পরেও স্বামীর কাছে ফেরেননি। 

অভিযোগ, শুক্রবার রাতে  একটি অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করে এসে শ্বশুরবাড়ির  বাইরে থেকে ঘরের শিকল তুলে দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় ভগীরথ। ভিতরে থাকা লোকজনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভায়। এমন কী, আগুন যাতে নেভানো না যায় তা নিশ্তিত করতে বাড়ির কাছে থাকা টিউবওয়েলগুলিও ভেঙে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কালিয়াগঞ্জ থানা ও দমকল বাহিনীকে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও ঘরের ভিতরে থাকা দুই শিশুসহ তিনজন অগ্নিদগ্ধ হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁদের প্রথমে কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের রায়গঞ্জ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

শনিবার সকালেই কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ হেমতাবাদ থানার সাহায্যে হেমতাবাদের ঠাকুরবাড়ি এলাকা থেকে অভিযুক্ত ভগীরথ মহলদার-সহ আরও দু' জনকে গ্রেফতার করে। তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, পরিকল্পনা করেই ওই বাড়িতে আগুন লাগিয়েছিল অভিযুক্ত ভগীরথ এবং তার সঙ্গীরা। জেরায় ধৃতরা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে বলেও দাবি পুলিশের।

অভিযুক্তের শ্যালক রাজা মহলদারেরও দাবি, 'জামাইবাবু মাঝেমধ্যেই  দিদিকে মারধর করত। দিদি ফিরতে রাজি না হওয়াতেই জামাইবাবু আমাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়েছে। ওর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।'