আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই গত বছর সমু্দ্রে মাছ ধরতে গিয়ে বিপদের মুখে পড়েছিল বহু ট্রলার। সেই ঘটনায় এখনও নিখোঁজ দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ৩৯জন মৎস্যজীবী। এবারও সেই একই ভুল করলেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগগণার কাকদ্বীপের মৎস্যজীবীরা। য়ার জেরে উত্তাল সমু্দ্রে মাছ ধরতে গিয়ে ডুবে গেল তিনটি ট্রলার । খোঁজ নেই আরও একটির। সব মিলিয়ে নিখোঁজ অন্তত সাতাশজন মৎস্যজীবী। 

সমু্দ্র উত্তাল থাকতে পারে বলে কয়েকদিন আগেই সতর্ক করেছিল আবহাওয়া দফতর। সেই খবরও ছিল মৎস্যজীবীদের কাছে। তার পরেও তিন চার দিন আগে কাকদ্বীপ থেকে কমবেশি দেড়শোটি ট্রলার সমুদ্রে মাছ ধরতে পাড়ি দেয়। শনিবার বাংলাদেশের জলসীমার কাছে বঙ্গোপসাগরের গভীরে বিপদে পড়ে ট্রলারগুলি। আবহাওয়া খারাপ থাকায় উত্তাল হয়ে ওঠে সমু্দ্র। বিপদ থেকে বাঁচতে দিকভ্রষ্ট হয়ে বাংলাদেশের জলসীমার মধ্যে ঢুকে পড়ে শতাধিক ট্রলার। কিন্তু উত্তাল সমু্দ্রের ঢেউয়ের দাপটে বাংলাদেশের হাঁড়িভাঙার চরের কাছে জল ঢুকতে শুরু করে চারটি ট্রলারে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার মধ্যে তিনটি ট্রলার ডুবে গিয়েছে। এফবি দশভূজা এবং এফবি নয়ন নামে দু'টি ট্রলারের মোট ২৭জন মৎস্যজীবীর কোনও খোঁজ নেই বলে জানা গিয়েছে। 

আরও পড়ুন- উত্তাল সমুদ্র, ডুবছে ট্রলার, সাহসী মৎস্যজীবীরা কীভাবে বাঁচলেন, দেখুন ভিডিও

বাংলাদেশি জলসীমায় ঢুকে পড়া শতাধিক ট্রলারকে সোমবার সকালে বাংলাদেশের উপকূলরক্ষী বাহিনীর নিরাপদে ভারতীয় জলসীমায় পৌঁছে দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশি উপকূল রক্ষী বাহিনী ও ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। নিখোঁজ ট্রলার ও নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।  নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের উদ্বিগ্ন পরিজনরা কাকদ্বীপে মৎস্যজীবীদের সংগঠনের অফিসে ভিড় করেছেন ভাল কোনও খবরের আশায়। 

প্রশাসনিক কর্তাদের অভিযোগ, ঝুঁকি নিয়ে বসমু্দ্রে গিয়েই বার বার বিপদে পড়ছেন মৎস্যজীবীরা। তাঁদের সচেতন করতে প্রশাসনের তরফে কর্মশালা করা হয়েছে। সমুদ্রে গিয়ে বিপদে পড়লে তাঁরা যাতে সাহায্য চেয়ে যোগাযোগ করতে পারেন, তার জন্য ড্যাট নামে একটি আধুনিক যন্ত্র ট্রলারগুলিতে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই সচেতন হচ্ছেন না মৎস্যজীবীরা।