দুর্গাপুরের প্রথম মহিলা হিসেবে এই পেশায় অ্যাপ নির্ভর বাইক চালাচ্ছেন এক গৃহবধূ ৪৫ বছর বয়সি গৃহবধূ সুস্মিতা দত্ত নিজের উপার্জনের লক্ষ্যেই এই পেশায়

দীপিকা সরকার, দুর্গাপুর: কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন অংশে অ্যাপ ক্যাব পরিষেবায় অনেকদিন আগে থেকেই নিযুক্ত হয়েছেন মহিলারা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক মহিলাই টোটো চালিয়ে অর্থ উপার্জনের পথ দেখিয়েছেন। এবার নিজের স্কুটি নিয়ে অ্যাপ নির্ভর বাইক পরিষেবায় নেমে পড়লেন দুর্গাপুরের এক গৃহবধূ। গোটা দুর্গাপুর শহরের মধ্যে তিনিই একমাত্র মহিলা যিনি স্কুটি বা বাইক নিয়ে যাত্রী পরিষেবা দিচ্ছেন। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

৪৫ বছরের ওই গৃহবধূর নাম সুস্মিতা দত্ত। তিনি দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের বি জোন এলাকার বাসিন্দা। ১৯ বছর আগে ওই এলাকারই এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বর্তমানে তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সে এখন দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। 

আরও পড়ুন- এমন গান গেয়েই ভাইরাল রানাঘাটের রানু, বাড়িতে জমছে ভিড়, দেখুন ভিডিও

সুস্মিতাদেবীদের সংসারে সে অর্থে কোনও আর্থিক অনটন নেই। তা সত্ত্বেও নিজের পায়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যেই স্কুটি নিয়ে পরিষেবা দিতে এগিয়ে এসেছেন এই গৃহবধূ। তবে এই প্রথম নয়, বিয়ের পর থেকেই স্বাবলম্বী হওয়ার তাগিদ ছিল তাঁর মধ্যে। কখনও টেলারিং, কখনও আবার বিউটিপার্লার বা বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করে উপার্জন করেছেন তিনি। এবার এক বন্ধুর পরামর্শেই নিজের স্কুটি নিয়ে পরিষেবা দিতে বেরিয়ে পড়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ার সূত্রে যা জানতে পেরে সুস্মিতাদেবীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দুর্গাপুরের বহু বাসিন্দা। ওই গৃহবধূর মতে, তাঁকে দেখে অন্য অনেক মহিলাই উপার্জনের নতুন পথ খুঁজে পাবেন। কারণ এখনও প্রচুর সংখ্যক মহিলা স্কুটি চালানোয় পারদর্শী হয়ে উঠেছেন। 

সুস্মিতাদেবীর কথায়, কোনও কাজকেই তিনি ছোট করে দেখেন না। ওই গৃহবধূর বলেন, 'সংসারের সব কাজ সেরে কিছু অর্থ রোজকার করতে ও নিজেকে ব্যাস্ত রাখতে ভালোবাসি। বিভিন্ন রকমের কাজ আমি জীবনে করেছি। আমার এক বন্ধু সঞ্জয় দাস ওলা বাইক চালায়। তাঁর কাছ থেকে আমি রোজকারের বিষয়টি জানতে পারি। ভাবনা চিন্তা করেই আমি ওলা সংস্থায় কাজ শুরু করেছি। আমার নিজের একটি স্কুটার নিয়ে। বেশ ভালো লাগছে কাজ করতে।' তবে মহিলা স্কুটি চালককে দেখে অনেক যাত্রীই যে অবাক হচ্ছেন, তা স্বীকার করে নিয়েছেন সুস্মিতাদেবী। তবে ওই যাত্রীরাই তাঁকে উৎসাহ দিচ্ছেন।

গত সোমবার থেকেই এই কাজে যোগ দিয়েছেন তিনি। প্রতিদিন সকাল হলেই স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন সুস্মিতাদেবী। যদিও এই বিষয়ে দুর্গাপুরে ওলা কর্তৃপক্ষের তরফে কেউ কোনও মন্তব্য করতে চাননি।