লকডাউনের জেরে কাজ হারিয়ে ফিরেছেন এ রাজ্যে। কিন্তু এবার কী হবে? একশো দিনের প্রকল্পের কাজ ও  বিনা পয়সা রেশনের দাবিতে পথে নামলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। ভাঙচুর চলল পঞ্চায়েত অফিসে, কোনওমতে পালিয়ে বাঁচলেন প্রধান। রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মুর্শিদাবাদের রেজিনগর।

আরও পড়ুন: আক্রান্ত বিজেপি নেতাকে দেখতে বাধা,এবার সৌমিত্র খাঁকে আটকালো পুলিশ

করোনা আতঙ্কে বদলে গিয়েছে জীবন। লকডাউনের আগে পর্যন্ত ভিন রাজ্যে কাজ করে যাঁদের দিব্যি সংসার চলে যেত, নিজের রাজ্যে ফিরে তাঁরাই এখন বেকার। মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের দাদপুর পঞ্চায়েত এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকদের দাবি, ভিন রাজ্য থেকে ফেরার পর দীর্ঘদিন বাড়িতেই বসে রয়েছেন। অন্য পঞ্চায়েতে যখন একশোর দিনে কাজে শ্রমিকদের নিয়োগ করা হচ্ছে, তখন দাদপুরে কাজের কোনও সুযোগ পাওয়া যাচ্ছেন। এমনকী, স্থানীয় পঞ্চায়েতে জানিয়েও রেশন থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা বিনা পয়সা চাল পাননি বলে অভিযোগ। অবশেষে ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙল।

সোমবার সকালে দাদপুরে পঞ্চায়েতের সামনে জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন উপপ্রধান- পঞ্চায়েতের কর্মীরা। আর তাতেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। পঞ্চায়েত অফিসে ভাঙচুর শুরু করে দেন ভিন রাজ্য থেকে আগত শ্রমিকেরা। বিক্ষোভের মুখে পড়েন দাদপুর পঞ্চায়েতের প্রধান মিতালী হালদার। তিনি বলেন, 'কোনওমতে বিক্ষোভকারীদের নজর এড়িয়ে পঞ্চায়েত অফিস থেকে বেরিয়ে এসেছি।' 

আরও পড়ুন: নদিয়ায় তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে চুরির কিনারা, পুলিশের জালে ভাইপো

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রেজিনগর থানার পুলিশ। ঘেরা ফেলা হয় পঞ্চায়েত ভবন। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কে শর্বরী রাজকুমার বলেন, ঘটনার তদন্তে চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।