দিল্লির হুমায়ুন রোড সংলগ্ন অধীর চৌধুরীর বাসভবন লাগোয়া দপ্তরে মাস পাঁচেক আগে দুষ্কৃতী হামলার রেস এবার এসে পরলো অধীরের খাসতালুক বহরমপুর এর মাটিতেই।লোকসভার বিরোধী কংগ্রেসের মুখ  তথা সাংসদ অধীর চৌধুরীর বহরমপুরে গোরাবাজার এলাকায় বাড়ি চৌধুরী ভিলাই  শনিবার মধ্যরাতে দুষ্কৃতী তাণ্ডবের মুখে পড়ল। এই ঘটনায় রবিবার গোটা বহরমপুর শহর জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। 

এদিন জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যেমন অসন্তোষ প্রকাশ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পাশাপাশি বহরমপুর এর কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী তীব্র ভাষায় রাজ্য সরকারকে বিধে বলেন," এটা প্রচন্ড ন্যাক্কারজনক ঘটনা, দেশের সংসদের একজন বিরোধী দলনেতার বাড়িতে হামলা চালানো হচ্ছে। আর রাজ্য সরকারের প্রশাসন নিষ্ক্রীয় ভূমিকা পালন করছে। এখনও পর্যন্ত কোনও দুষ্কৃতীকে তারা সিসিটিভি দেখে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে পারেনি"।

পাশাপাশি এই ঘটনায় খোদ অধীরবাবু দিল্লি থেকে তার টেলিফোনিক বার্তাকে বলেন," এই ঘটনা খুবই নিন্দনীয়। যারা রাতের অন্ধকারে এইভাবে বাড়িতে হামলা চালিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করুক রাজ্য সরকার"। জানা যায়, আর পাঁচটা দিনের মতো শনিবার রাতেও অধীরবাবু বাড়ি পাহারা দিচ্ছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। সেই সময় আচমকা বৃষ্টির মধ্যেই অধীরবাবুর বাড়ির জানালা লক্ষ্য করে বেশ কয়েকজন এলোপাথারিভাবে পাথর ছুড়তে থাকে। ভেঙে ফেলা হয় পরপর জানালার কাঁচ। 

এরপরই আওয়াজ শুনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা তাড়া করলে পালায় দুষ্কৃতীরা। রবিবার এই ঘটনা চাউর হতেই কংগ্রেস মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। হতেই কংগ্রেস কর্মীরা জড় হন অধীর চৌধুরীর বাড়ির সামনে। এরপর দলের পক্ষ থেকে বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সূত্রের খবর, সিসিটিভি ফুটেজের সূত্রে পুলিশ দুষ্কৃতীদের খোঁজ শুরু করেছে। তবে কংগ্রেসের অভিযোগ, গত তিন মাস আগেও হামলার অভিযোগ করা হয়েছিল বহরমপুর থানায়। এবারও অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্ত্বেও পুলিশ যদি দুষ্কৃতীর ধরতে না পারে সেটা তাদের ব্যর্থতা। 

অধীর চৌধুরীর পরিবার ও সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাৱ দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। উল্লেখ্য এই হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার বা আটক করতে পারেনি পুলিশ। প্রসঙ্গত মাস কয়েক আগে, বহরমপুরের  ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত খাগড়া জগদম্বা মোড়ে বহরমপুর টাউন কংগ্রেস কার্যালয়ে তালা ভেঙে দুষ্কৃতীদের লুটপাটের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।ঘটনা নজরে আসতেই কংগ্রেস কর্মীরা পুরো ঘটনার বিবরণ জানিয়ে বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এই ব্যাপারে মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপারকে .শবরী রাজকুমার বলেন, ইতিমধ্যে আমরা সাংসদের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করেছে। এর বেশি এখনই প্রাথমিক পর্যায়ে তদন্তের স্বার্থে কিছু বলা সম্ভব নয়"।