কাশ্মীরে জঙ্গি হানায় মুর্শিদাবাদের৫ বাঙালি শ্রমিকের খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার  ছত্তিশগড়ে খুন বাঙালি শ্রমিক। ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে নৃসংশভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের বাসিন্দা বছর বত্রিশের বানিরুল ইসলামকে। ময়নাতদন্তের পর এদিন বানিরুলের মৃতদেহ মুর্শিদাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। 

এক ঠিকাদার এই খুনের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ তুলেছে মৃতের পরিবারের লোকজন। তবে এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত এই বিষয়ে স্থানীয় রঘুনাথগঞ্জ থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে। থানার এক আধিকারিক বলেন , আ্মাদের এখনও পর্যন্ত  ঘটনার কিছুই জানানো হয়নি।।তবে অভিযোগ জমা হলে অবশ্যই তার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হবে ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে ,রঘুনাথগঞ্জ  থানার সম্মতিনগরের পাপার পাড়া এলাকার বাসিন্দা বানিরুল কয়েক বছর ধরেই রাজমিস্ত্রির কাজে ছত্রিশগড়ে  কর্মরত। সেখানে সম্প্রতি একটি ঠিকাদারি সংস্থার অধীনে সে কাজ করছিল বলেই মৃতের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে। আর ওই সংস্থার মালিকের সঙ্গে পাওনা টাকা নিয়ে কয়েকদিন ধরেই বানিরুলের বচসা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। সোমবার বানিরুলের সঙ্গে তার ঠিকাদার সংস্থার মালিকের ঝামেলা চরমে পৌঁছয়। অভিযোগ, বানিরুল বাইকে করে যাওয়ার সময় দুষ্কৃতীরা বাইক থামিয়ে তাকে ঘিরে ধরে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাঁশ দিয়ে পেটানো শুরু হয় তাঁকে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ওই ঠিকা শ্রমিক।

পরে স্থানীয়রা বানিরুলকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা তাঁকে ছত্রিশগড়ের সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। এমনকী ওই জেলা হাসপাতাল থেকেও জানিয়ে দেওয়া হয় বানিরুলের আঘাত গুরুতর। তাই তার চিকিৎসা জেলা হাসপাতালে করা সম্ভব নয়। পরে তাঁকে ছত্রিশগড়ের বড় মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে মারা যায় বানিরুল। 

পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বানিরুল ইসলাম ছত্রিশগড়ে কর্মসূত্রে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন। বহুদিন ধরে ঠিকাদারের থেকে পাওনা টাকা চাওয়ার জেরেই তাঁকে খুন করা হয়েছে। এদিকে এই নৃশংস খুনের খবর পেয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বানিরুলের সম্মতিনগর বাড়িতে এসে হাজির হন রঘুনাথগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান । তিনি বলেন,এইভাবে বাংলার শ্রমিককে কখনও কাশ্মীরে তো কখনও ছত্রিশগড়ে নিরাপত্তার অভাবে মরতে হচ্ছে। আমরা বানিরুলের মৃতদেহ ফিরিয়ে আনার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা নিয়েছি। রাতের মধ্যেই তার দেহ ফিরে আসবে। আমরা এই পরিবারের পাশে সব সময় থাকব। এই ঘটনায় মৃতের ছেলে বলেন, বাবাকে চক্রান্ত করে দুষ্কৃতী লাগিয়ে ঝাড়খণ্ডের ঠিকাদার খুন করেছে। আমরা এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষী ঠিকাদারের চরম শাস্তি চাই।