সকলের অজান্তে ঘুমন্ত শিশুকে পুকুরে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠল মায়ের বিরুদ্ধে। স্বামীর  অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার অভিযুক্ত।

বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। আর সেই সুযোগেই নিজের দেড় বছরের কন্যাসন্তানকে ঘুমন্ত অবস্থায় তুলে নিয়ে গিয়ে গ্রামের পুকুরে ছুড়ে ফেলে দিল মা। এমনই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে বাঁকুড়ার তালড্যাংরা থানার যফলা গ্রামে। নিজের শিশুকন্যাকে খুনের অভিযোগে অনিমা মাকুড় নামে ওই মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটায় ওই মহিলা। স্ত্রীর বিরুদ্ধে শিশুকন্যা কে খুনের অভিযোগ জানান স্বামী ভরত মাকুড়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান পারিবারিক অশান্তির কারনেই খুন করা হয়েছে ওই শিশু কন্যাকে । ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তালড্যাংরা থানার পুলিশ। 

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে বাঁকুড়ার তালড্যাংরা থানার যফলা গ্রামের ভরত মাকুড়ের সঙ্গে বিয়ে হয় অনিমা মাকুড়ের। তাঁদের তিন এবং দেড় বছরের দু'টি কন্যাসন্তান ছিল। ভরত মাকুড় জানিয়েছেন, সোমবার রাত বারোটা নাগাদ স্ত্রী অনিমা মাকুড় তাঁকে ঘুম থেকে তুলে বলেন, ছোট মেয়ে বৃষ্টিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রাতভর খুঁজলেও ওই শিশুকন্যাকে পাওয়া যায়নি। 

মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় পুকুরে ভাসতে দেখে ওই শিশুকন্যার দেহ। তড়িঘড়ি দেহ উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে শিশুকন্যা কে মৃত বলে ঘোষণা করেন  চিকিৎসকরা। পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পাঠায়। স্বামীর সন্দেহ হওয়ায় স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে স্বীকার না করলেও  পরে ভেঙে পড়ে মেয়েকে পুকুরে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করে অনিমা মাকুড়। তবে শুধুই পারিবারিক অশান্তি নাকি খুনের পিছনে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে  পুলিশ।  

ধৃত অনিমা মাকুড়কে অসুস্থতার থাকার কারণে আদালতে তোলা হয়নি। তাকে তালড্যাংরা গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।