বাবা পেশায় গাড়ি চালক। টানাটানির সংসারে মেধাবী মেয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্ত সেই স্বপ্নপূরণ করতে গিয়েই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। উত্তরপ্রদেশে ট্রেন থেকে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল দুর্গাপুরের বাসিন্দা এক মা এবং মেয়ের। অভিযোগ, দু্ষ্কৃতীরা চলন্ত ট্রেনের মধ্যে ব্যাগ ছিনতাই করতে গিয়ে বাধা পেয়ে প্রথমে মাকে ট্রেন থেকে ফেলে দেন। মাকে বাঁচাতে গিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান মেয়েও।

মৃত দু' জনের নাম মীনা ডোম (৫০) এবং মনীষা ডোম (২১)। মনীষার চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছে ছিল। জানা গিয়েছে, গত বছরের মতো এবারেও জয়েন্ট এন্ট্রান্সে পাশ করেছিলেন মনীষা। কিন্তু ক্রমতালিকায় ভাল স্থান দখল করতে না পারায় সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে পড়ার সুযোগ পাননি তিনি। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়ানোর সামর্থ্য ছিল না মনীষার বাবার। 

শেষ পর্যন্ত রাজস্থানের কোটায় একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এক বছর প্রশিক্ষণ নিয়ে ফের জয়েন্টে বসার পরিকল্পনা করেন মনীষা। সেই উদ্দেশ্যেই গত ১ অগাস্ট দিল্লিতে নিজের দিদির বাড়িতে পৌঁছন মনীষা এবং তাঁর মা। দিল্লি থেকেই গত শুক্রবার রাত আড়াইটে নাগাদ নিজামুদ্দিন- ত্রিবন্দ্রম এক্সপ্রেস ধরে কোটার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তাঁরা। মনীষা এবং তাঁর মায়ের সঙ্গে তাঁদের এক আত্মীয়ও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। 

অভিযোগ, ট্রেন ছাড়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবন রোড স্টেশনের কাছে চলন্ত ট্রেনের মধ্যে কয়েকজন দুষ্কৃতী মীনাদেবীর ব্যাগ ছিনতাই করার চেষ্টা করেন। দুষ্কৃতীদের বাধা দেন মীনাদেবী। অভিযোগ, ধস্তাধস্তির মধ্যে চলন্ত ট্রেন থেকে মীনাদেবীকে ফেলে দেয় দুষ্কৃতীরা। মাকে বাঁচাতে এর পরেই ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেন মনীষাও। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। তবে ট্রেনের মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। কারণ, মনীষাদের সঙ্গে থাকা আত্মীয়ও সেই সময় ঘুমিয়ে ছিলেন। 

মা এবং মেয়ের এই মর্মান্তিক পরিণতির খবর এসে পৌঁছনো মাত্রই দুর্গাপুরের রাঁচি কলোনি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ছোট থেকে এখানেই বড় হয়েছেন সদা হাস্যময় মনীষা। মিশুকে স্বভাবের বলেই এলাকায় পরিচিত ছিলেন তিনি। মা ও মেয়ের এমন পরিণতির কথা মেনে নিতে পারছেন না কেউই। রেলের নিরাপত্তা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

এ দিন দুপুরে অজমেঢ়- শিয়ালদহ এক্সপ্রেসে করে দুর্গাপুর স্টেশনে এসে পৌঁছয় মীনাদেবী এবং তাঁর মেয়ে মনীষার কফিন বন্দি দেহ। কিন্তু যথাযথ কাগজপত্র না আসায় স্টেশনেই দীর্ঘক্ষণ দেহ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয় মনীষার বাবা দিলীপ ডোমকে। স্ত্রী ও মেয়েকে একসঙ্গে হারানোর যন্ত্রণার সঙ্গে যোগ হয় দেহ নিতে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার হয়রানি।