জট কাটার কোনও লক্ষ্মণ তো নেই, বরং পরিস্থিতি ক্রমেই যেন জটিল হচ্ছে। জুনিয়র চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে একের পর এক মেডিক্যাল কলেজ এবং সরকারি হাসপাতাল থেকে ইস্তফা দিতে শুরু করলেন সিনিয়র চিকিৎসক এবং অধ্যাপকরা। সবথেকে বেশি সংখ্যক ইস্তফা জমা পড়েছে কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সেখানে অন্তত ৯৬জন সিনিয়র চিকিৎসক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ইস্তফা পত্র জমা দিয়েছেন। ফলে গোটা হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এমন কী বন্ধ হয়ে যেতে পারে ময়নাতদন্তও। 

চিকিৎসক নিগ্রহের প্রতিবাদে প্রথম ইস্তফা দেন সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজের কয়েকজন চিকিৎসক। সেখানে এখনও পর্যন্ত ১৫ চিকিৎসক ইস্তফা দিয়েছেন। সিউড়ি সদর হাসপাতালেও বৃহস্পতিবার ৬৭জন চিকিৎসক ইস্তফা দেন বলে খবর। এনআরএস হাসপাতালের প্রিন্সিপাল এবং সুপারও ইস্তফা দিয়েছেন। কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকে আরজি কর হাসপাতালে একের পর এক চিকিৎসক এনআরএস কাণ্ডের প্রতিবাদে ইস্তফা দিতে শুরু করেন। সবমিলিয়ে ৯৬ জন চিকিৎসক সেখানে ইস্তফা দেন। বিভিন্ন দফতরের সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে সেখানে ফরেন্সিক মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র চিকিৎসকরাও পদত্যাগ করেছেন। যার ফলে হাসাপাতালের ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফরেন্সিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরাও পদত্যাগ করায় ময়নাতদন্তও বন্ধ হয়ে যেতে পারে আরজি করে। 

আরজি করের মতোই কলকাতার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজেও ৯ জন চিকিৎসক ইস্তফা দিয়েছেন বলে খবর। এসএসকেএম হাসপাতালেও ১১ সিনিয়র চিকিৎসক ইস্তফা দিয়েছেন। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে ১৭ চিকিৎসক পদত্যাগ করেছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, জুনিয়র চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে আরও অনেক সিনিয়র চিকিৎসকই বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে পদত্যাগ করতে পারেন। ফলে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা। 

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরেই বেড়েছে চিকিৎসকদের ইস্তফার সংখ্যা। এ দিন বিকেলে রাজ্যপালের কাছে যেতে পারেন সিনিয়র চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধি দল। দাবি পূরণ না হলে টানা কর্মবিরতির হুমকি দিয়েছেন সিনিয়র চিকিৎসকরা।