এনআরসি ইস্যুকে বিকৃতভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। যার জেরে মানুষের মধ্যে বিব্রান্তি ছড়াচ্ছে। বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরে দাঁতনের গান্ধী সংকল্প যাত্রায় এমনই মন্তব্য করেন মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন তিনি বলেন, এনআরসি হলে স্থানীয় মুসলিমদের কোনও অসুবিধা হবে না। এসব ভুলভাল খবর রটানো হচ্ছে। 

একইসঙ্গে তিনি বলেন, তৃণমূল হিংসার রাজনীতি করছে। ভোট না দিলে ভয় দেখাচ্ছে। শুধু তাই না বর্তমানে এনআরসি ইস্যু নিয়ে অন্যরকম ব্যাখ্যা করছে ওদের নেতারা। এখন ভয় তৈরি করছে মানুষের মনে। প্রচার করা হচ্ছে, এনআরসি বলে পূর্ব বাংলার উদ্বাস্তুদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে ৷ পাহাড়ে প্রচার করা হচ্ছে, গোর্খাদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে ৷জঙ্গলমহলে বলছে, এসসি এসটিদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে ৷ আমি বলে দিচ্ছি, পশ্চিমবাংলা কেন, ভারতবর্ষের কোনও লোককে কেউই তাড়াতে পারবে না ৷ আদিবাসী উপজাতি গোর্খা সবাই থাকবে। যে মুসলমানেরা বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে, মায়ানমর থেকে যে রহিঙ্গারা এখানে ঢুকেছে একমাত্র তাদেরই তাড়ানো হবে ৷ বাংলাদেশ থেকে যে হিন্দু,বৌদ্ধ,খ্রিশ্চান, শিখ,যারা ধর্মাচরণ করতে পারত না, স্বাধীনভাবে থাকতে পারত না,বাঁচার জন্য পালিয়ে আসা সেই শরণার্থীদেরই থাকতে দেওয়া হবে এ দেশে ৷ নাগরিকত্ব সংশোধন বিল নিয়ে এসে এদের সবাইকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে ৷ এদের কাউকে তাড়ানো হবে না। কিন্তু বাংলাদেশি মুসলিম ও রোহিঙ্গাদের আমরা থাকতে দেব না। বিদেশি নাগরিক যারা এখানে এসে বোমা বন্দুকের রাজত্ব করছে, আমাদের অধিকারে ভাগ বসাচ্ছে তাদের তাড়ানো হবে ৷ ফলে অন্যরা উল্টোপাল্টা ব্যাখ্যা দিলে ভয় পাবেন না ৷  

বুধবার দাঁতন বাজার এলাকা থেকে শুরু হয় গাঁধী সঙ্কল্প যাত্রা ৷ এদিন পদযত্রা শুরুর আগে দাঁতনের শরশঙ্কা ফুটবল ময়দানের সভা থেকে ঐতিহাসিক শরশঙ্কা দিঘি সংস্কার করার কথা বলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় এলে এই দিঘির উন্নয়ন হবে। দিঘির জল কেউ নষ্ট করতে পারবে না। এখানে নিশ্চিত একটা প্রজেক্ট তৈরি করব। অন্যদের মতো মিথ্যে কথা আমরা বলি না।