কালনা হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক টিভি দেখতে ব্যস্ত ছিলেন। আর দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় স্মার্ট ফোন নিয়ে মগ্ন ছিলেন নার্স। পরিণাম ফের বেঘোরে রোগীর মৃত্যু।  ঘটনার পর অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে হাসপাতাল চত্বরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর পরিবারের লোকেরা। শেষপর্যন্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে ততক্ষণে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছেন ওই নার্স।

মৃতের নাম মমতা ঘোষ। বাড়ি, দুর্গাপুরের কাদা রোডে। বৃহস্পতিবার শ্বাসকষ্ট নিয়ে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ওই মহিলা। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় সুস্থই হয়ে গিয়েছিলেন মমতাদেবী। এমনকী, শনিবার ভোর পর্যন্তই কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু সকাল সাতটা নাগাদ ফের শ্বাসকষ্ট শুরু হয় ওই মহিলার।  মৃতার বাড়ির লোকদের দাবি, মমতা ঘোষ যখন শ্বাসকষ্ট ছটফট করছেন, তখন কর্তব্যরত নার্সকে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন তাঁরা। শত অনুরোধে কর্ণপাত করেননি দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের নার্স তনিমা পাণ্ডে। তিনি তখন স্মার্টফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।  ফোনে এতটাই মগ্ন ছিলেন যে,  মমতাদেবীর বাড়ির লোককেই  অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে দিতে বলেন।  শেষপর্যন্ত ওই নার্সের যখন রোগীকে মাস্ক পরানোর সময় হয়, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।  অভিযুক্ত নার্স তনিমা পাণ্ডেই পরিবারের লোককে জানান, মমতা  ঘোষ মারা গিয়েছেন।  এই ঘটনার পরই হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতার পরিবারের লোকেরা। শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই নয়, পুলিশের কাছে দুর্গাপু মহকুমা হাসপাতালের নার্স তনিমা পাণ্ডের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁরা। অভিযুক্ত পলাতক।