রাত নামলেই শোনা যাচ্ছে ডাক, ইতিউতি নজরে পড়ছে পায়ের ছাপ। অজানা জন্তুর আতঙ্কে কাঁটা নদিয়ার ফুলিয়া গ্রামের বাসিন্দারা। আতঙ্ক এতটাই যে, এলাকায় রাত পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গ্রামে ঘুরে গিয়েছেন বনদপ্তরের আধিকারিকরা। মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। কিন্ত রাতের অন্ধকারে কোনও প্রাণীর ডাক শোনা যাচ্ছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।

সকালে সবকিছু স্বাভাবিক। কিন্তু সুর্য ডুবলেই এখন আতঙ্ক গ্রাস করছে নদিয়ার বেলঘড়িয়া এক নম্বর পঞ্চায়েতের ফুলিয়াপাড়া, চটকাতলা-সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দাদের। তাঁদের দাবি, গত সাতদিন ধরেই গ্রামে বিভিন্ন প্রান্তে বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে।  কিন্তু কীসের আওয়াজ ভেসে আসছে, তা স্পষ্ট নয়। গ্রামবাসীদের ধারনা, এলাকায় ঢুকে পড়েছে কোনও অজানা জন্তু। রাতে সেই জন্তুর ডাকই শোনা যাচ্ছে।  শুধু তাই নয়, প্রতিরাতেই নাকি আবার গ্রাম থেকে বেশ কয়েকটি কুকুর ও কুকুরের ছানাও উধাও হয়ে যাচ্ছে! তাতে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।  পরিস্থিতি এমনই যে, রাতে এলাকার লোকজন একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে লাঠি ও টর্চ নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন, জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছে আগুন। 

আরও পড়ুন: কলকাতার কাছেই বাঘের আতঙ্ক, কোন্নগরে ভয় ধরাল সিসিটিভি-র ছবি

খবর পৌঁছেছে বনদপ্তরেও। সোমবার সন্ধ্যায় নদিয়ার চটকাতলা গ্রাম পরিদর্শন করতে এসেছিলেন  বনদপ্তরের বিট অফিসার নিরঞ্জন দাস। একজন বনরক্ষী ও একজন বনশ্রমিককে সঙ্গে নিয়ে গোটা গ্রাম ঘুরে দেখেন তিনি। এলাকা পরিদর্শনের সময়ে বেশ কয়েকটি গোলাকার পায়ের ছাপ বনদপ্তরের বিট অফিসারেরও নজরে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন বনদপ্তরের আধিকারিক নিরঞ্জন দাস। উল্লেখ্য, এর আগে দু'দফায় নদিয়ার চটকাপাড়া গ্রাম পরিদর্শন করেছেন বনদপ্তরের আধিকারিকরা। কিন্তু তখন কোনও জন্তু কিংবা পায়ের ছাপ দেখা যায়নি বলে জানা গিয়েছে।