ভাগাড়ের মাংস নয়, হুগলির চুঁচুড়ায় দুটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ৩০০ কেজি মুরগির পচা মাংস উদ্ধার করল পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে দুটি দোকানের মালিককেই।  তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া মাংস কমপক্ষে ২০ দিনের বাসি। অভিযুক্ত মাংস ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

উৎসবের মরশুমে মাংসের চাহিদা বাড়ে। মাংসের দোকানে থলে হাতে সাধারণ মানুষের লম্বা লাইন চোখে পড়ে। আবার রবিবার বা ছুটির দিনেও বাড়িতে মাংস-ভাত খান অনেকেই।  কিন্তু দোকান থেকে যে মাংস কিনে আনছেন, তা আদৌও খাবার যোগ্য তো? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চুচুড়া শহরের বেশ কয়েকটি দোকানে বাসি মুরগির মাংস বিক্রি হচ্ছে বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ফুড সেফটি অফিসাররা। তক্কে তক্কে ছিলেন পুলিশ আধিকারিকরা।   শেষপর্যন্ত গোপনসূত্রে খবর পেয়ে শনিবার রাতে শহরের তালডাঙ্গা পৌর বাজারের একটি মাংসের দোকানে হানা দেন চুঁচুড়া থানার পুলিশ। ফ্রিজ থেকে উদ্ধার ১৫০ কেজি বাসি মুরগির মাংস।  গ্রেফতার করা হয় ওই দোকানের মালিক অরূপ ঘোষকে। এরপর  বলরাম গলি এলাকার একটি মাংসের দোকানেও যায় পুলিশ। সেই দোকানের ফ্রিজ থেকেও আরও ১৫০ কিলো বাসি মাংস উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। গ্রেফতার হন দোকান মালিক বিদ্যুৎকুমার মণ্ডলকে।

কিন্তু দোকানের ফ্রিজ কেন বাসি মাংস মজুত করেছিলেন অভিযুক্ত মাংস ব্যবসায়ী?   তদন্তকারীদের  বক্তব্য, উৎসবের মরশুমে বাজারে মাংসের চাহিদা থাকে যথেষ্টই।  কিন্তু সবসময় দাম কিন্তু একই থাকে না, হেরফের হয়। তাই আগেভাগে ফ্রিজে বাসি মাংস মজুত রেখে, তা বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছিলেন অভিযুক্তেরা।  চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের এসিপি জানিয়েছেন,  এই ধরণের অসাধু ব্যবসা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। নিয়মিত অভিযান চালাবে পুলিশ।  চন্দনন্গরের পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, পচা মাংস খেলে মানুষ তো অসুস্থ হয়ে পড়তেন। তাছাড়াই এভাবে পচা মাংস বিক্রি করা আইনের চোখে প্রতারণাও বটে। ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।