স্বামীর মৃতদেহ উদ্ধারের পরে কেঁদে ভাসিয়েছিলেন স্ত্রী। কিন্তু তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারল, তার কয়েক ঘণ্টা আগে সেই স্ত্রী নিজের প্রেমিকের সঙ্গে মিলে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করেছিল স্বামীকে। ডায়মন্ড হারবারের স্টেশন মাস্টারের রহস্যমৃত্যুর ঘটনার কিনারা করে নিহতের স্ত্রী এবং প্রেমিককে গ্রেফতার করল পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, নিজের অমতে বিয়ের প্রতিশোধ এবং ভবিষ্যতে সরকারি চাকরির লোভেই প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করেছে স্ত্রী। ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এ দিন আদালতে তোলে পুলিশ। 

গত ১১ নভেম্বর ভোরবেলা ডায়মন্ড হারবারের রায়নগরে নিজের ভাড়া বাড়ির সামনের নর্দমায় উদ্ধার হয় স্টেশন মাস্টার নির্মল কুমারের দেহ। আদতে ভাগলপুরের বাসিন্দা তরুণ ওই স্টেশন মাস্টারের দেহ উদ্ধার করতে গিয়েই সন্দেহ দানা বেঁধেছিল তদন্তকারীদের মনে। কারণ নিহতের গলায় ফাঁসের দাগ ছিল। আর তাঁর স্ত্রী সোনালি কুমারীর দাবি ছিল, রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি তাঁর স্বামী। ঘটনার কয়েকদিন আগেই বিহার থেকে শিশুপুত্রকে নিয়ে স্বামীর কাছে এসেছিল সোনালি। 

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, গলায় ফাঁস লেগে মৃত্যু হয়েছে নির্মল কুমারের। এর পরেই খুনের বিষয়ে নিশ্চিত হয় পুলিশ। প্রথম থেকেই নিহতের স্ত্রীর ভূমিকায় সন্দেহ ছিল তদন্তকারীদের। প্রাথমিক জেরাতেও তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করারই চেষ্টা করেছিল সোনালি কুমারী। এরই মধ্যে সোনালির মোবাইলের কল লিস্ট থেকে আরশাদ জলিল নামে এক যুবকের নাম পান তদন্তকারীরা। জেরায় ওই যুবকের পরিচয় জানতে চেয়ে চেপে ধরতেই পুলিশের সামনে ভেঙে পড়ে সোনালি। 

আরও পড়ুন- ডায়মন্ড হারবারের স্টেশন মাস্টারের রহস্যমৃত্যু, বাড়ির সামনে নর্দমায় দেহ

জেরায় তদন্তকারীরা জানতে পারেন, নির্মল কুমারকে বিয়ের আগে মুঙ্গেরের বাসিন্দা আরশাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সোনালির। কিন্তু বাড়ির অমতে দু' জনের বিয়ে হয়নি। এর পর নির্মল কুমারের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায় সোনালির। আর বিদেশে চলে যায় আরশাদ। 

বিয়ের পরে ফের সোনালির সঙ্গে যোগাযোগ হয় আরশাদের। এর পরেই দু' জনে মিলে নির্মল কুমারকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয়। 

সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সোনালি ডায়মন্ড হারবারে এসে পৌঁছনোর পরেই গত ৯ নভেম্বর সেখানে পৌছে যায় আরশাদ। এর পর ১০ নভেম্বর রাতে নির্মল কুমার ঘুমিয়ে পড়ার পরে ওই ভাড়া বাড়িতে পৌঁছয় সে। দরজা খুলে প্রেমিককে ভিতরে ঢোকায় সোনালি। এর পরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন নির্মল কুমারকে গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করে দু' জনে। 

ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সুপার ভোলানাথ পান্ডে এ দিন সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান, খুনের পর নজর অন্যদিকে ঘোরাতেই স্টেশন মাস্টারের দেহ নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল খুনকে দুর্ঘটনা বলে প্রমাণ করা। এর পরেই গা ঢাকা দেয় অভিযুক্ত আরশাদ। আর পুলিশ ও প্রতিবেশীদের সামনে অভিনয় করে ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানে না বলে দাবি করে সোনালি। 

পুলিশ সূত্রে খবর, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছাড়াও স্বামীর চাকরি হাতাতেই খুনের ছক কষেছিল সোনালি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশি জেরায় ভেঙে পড়ে সে। আর তার থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আরশাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নিহত স্টেশন মাস্টারের ভাইয়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। 

এ দিন দু' জনকেই ডায়মন্ড হারবার আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়  পুলিশ। সোনালি ও আরশাদকে জেরা করে খুনের উদ্দেশ্য নিয়ে আরও সুস্পষ্ট তথ্য জানতে চান তদন্তকারীরা।