শান্তিতে কেটেছে খড়্গপুর বিধানসভা উপনির্বাচন ৷ নিজেদের রণকৌশল শেষ করে খড়্গপুর শহর ছেড়েছে তৃণমূলের টিম পিকে ৷ তবে খড়্গপুর যাওয়ার আগে দলের নেতাদের জানিয়ে গিয়েছে- চিন্তার কিছু নেই,জিতছে তৃণমূলের প্রদীপ সরকার ৷ অন্যদিকে সেই বার্তাকে ব্যাঙ্গ করে কংগ্রেস ও বিজেপির প্রার্থীর পাল্টা হাসি ৷ উভয়েই আত্মবিশ্বাসী , শান্তির অবাধ ভোট রায় দেবে তাদের দিকেই ৷ 
 
ভোট শেষে সোমবার রাতেই ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার প্রতিনিধি দল খড়্গপুর ছাড়ে। তারা সব দিক খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হয়েছে যে, খড়্গপুরে এ বার প্রদীপ সরকারই জিতবেন। শহর ছাড়ার আগে ওরা এই পূর্বাভাসই দিয়ে গিয়েছে। ব্যাবধানও নাকি দশের ওপরে থাকবে বলে দলের নেতাদের জানিয়ে গিয়েছে৷  ভোটের  তিনসপ্তাহ আগে থেকেই খড়্গপুর শহরে এসে ডেরা বেঁধে ছিলেন টিম পিকে- এর সদস্যরা ৷ বিভিন্ন রণকৌশল দিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পরিচালনা করেছেন ৷ ভোটের দিন সকাল থেকে সন্ধ্য়া পর্যন্ত কন্ট্রোল রুম খুলে প্রতিটি বুথের খবর নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তারা ৷ পরে তথ্যের পর্যালোচনা হয়েছে। সূত্রে খবর, খড়্গপুরের ভোটের দিকে না কি বাড়তি নজর ছিল ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরেরও। তাঁর কাছেও না কি নির্দিষ্ট সময় অন্তর কিছু তথ্য পৌঁছনো হয়েছে।

খড়্গপুরে সাধারণত ভোটের হার ৭০-৭২ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। উপ- নির্বাচনে ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। উপ- নির্বাচনে সাধারণ ভোটের তুলনায় খানিক কম ভোট পড়ে। ফলে, ভোটের হার খারাপ নয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ বার মূলত ত্রিমুখী লড়াই হয়েছে। ফলে, প্রদত্ত ভোটের মধ্যে যে দল ৪০-৪২ শতাংশ ভোট পাবে, সেই দলই জিততে পারে। গত লোকসভা নির্বাচনে খড়্গপুরে তৃণমূল পেয়েছিল ২৯ শতাংশ ভোট। বিজেপি পেয়েছিল ৫৭ শতাংশ ভোট। গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল পেয়েছিল ২২ শতাংশ ভোট। বিজেপি পেয়েছিল ৩৯ শতাংশ ভোট। তৃণমূলের পক্ষে কি ২৯ থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছনো সম্ভব? এই প্রশ্ন রয়েছেই ৷ 

তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপও জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলছেন, শহরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ভোট দিয়েছেন। মানুষের ভোটে আমিই জিতব। বিজেপি প্রার্থী প্রেমচাঁদ ঝাঁয়ের খোঁচা, ওদের (তৃণমূল) কোনও অঙ্কই মিলবে না। আমি নিশ্চিত, খড়্গপুরের মানুষ ভোটে বিজেপিকেই সমর্থন করেছেন। পাল্টা বাং-কংগ্রেস জোটের পার্থী চিত্ত মন্ডল জানান- কংগ্রেসের খড়্গপুর ৷ মানুষের রায় সেদিকেই ৷   তবে ফলাফল যাই হোত তিন প্রধান প্রার্থীকে গত দুদিন ধরেই গণণা কেন্দ্র খড়্গপুর শহরের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের পাশপাশি একসঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছে ৷ নির্বাচনী লড়াইয়ে ফল যেটাই হোক, নিজেদের মধ্য়ে সৌজন্য বজাই রেখে একসঙ্গে ঘোরাফেরা করেছেন তাঁরা ৷