সংক্ষিপ্ত
স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসলেও এতদিন হাতেনাতে ধরতে পারেননি। যার ফলে গ্রামবাসীরা সব কিছু জানলেও কিছু বলতেও পারেনি। কিন্তু সহ্যের সীমা ছাড়াতেই এতদিন গ্রামবাসীরা একযোগে ওই বাড়িতে চড়াও হন।
সমাজ যত আধুনিক হচ্ছে, যত এগিয়ে চলেছে নতুন স্রোতে ততই বাড়ছে নিত্যনতুন সামাজিক অপরাধের পরিমাণ। এদিকে বর্তমানে বাংলার একাধিক জায়গা থেকে প্রায়শই মধুচক্রের(Prostitution in West Bengal) হদিশ মেলে। এমনকী প্রায়শই দেহব্যবসার জেরে পুলিশের ফাঁদে পরে অগুণতি তরুণ-তরুণী। এবার একই ঘটনা ঘটল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের(Balurghat Block in Dinajpur District) ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের(Panchayet) ভূষিলা মাঠ এলাকায়। এই গ্রামেরই একটি বাড়ির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল দেহ ব্যবসা। স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসলেও এতদিন হাতেনাতে ধরতে পারেননি। যার ফলে গ্রামবাসীরা সব কিছু জানলেও কিছু বলতেও পারেনি। কিন্তু সহ্যের সীমা ছাড়াতেই এতদিন গ্রামবাসীরা একযোগে ওই বাড়িতে চড়াও হন। আর তখনই হাতেনাতে ধরা পড়ে যান দলের মূল পাণ্ডা।
শনিবার ভোর রাতে ঘটেছে এই ঘটনা। মোট ছয়জনকে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। ধৃতদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও দু'জন মহিলা রয়েছে বলে জনা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ধৃত ছয়জনকে পুলিশের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মূল অভিযুক্ত আবার এলাকারই বাসিন্দা বলে জানা যাচ্ছে। উত্তেজিত জনতা তার বাড়িতেও ভাঙচুর চালায়। এদিকে আসল ঘটনার কথা জানাজানি হতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। ধৃতদের মধ্যে একজন দম্পত্তিও রয়েছে বলেও খবর। দিনের পর দিন ওই এলাকায় দেহব্যবসা চলার ফলে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে আগেও অভিযোগ করেছিলেন স্থানীয়রা। কিন্ত ছিল না কোনও বড়সড় প্রমাণ। কিন্তু শনিবারই আসল ঘটনার পর্দা ফাঁস হয়ে যায়।
আরো পড়ুন- এক ‘জাওয়াদে’ রক্ষা নেই সঙ্গে দোসর ভরা কোটাল, কেন ফের সিঁদুরে মেঘ দেখছে হাওয়া অফিস
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আগেও একাধিকবার অচেনা পুরুষ ও মহিলারা ওই বাড়িতে রাত বিরেতে প্রবেশ করত। এমনকি সমস্ত ধরনের নেশার চক্রও চলত বলে অভিযোগ করেছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। আজ হাতেনাতে ওই বাড়িতে অপ্রীতিকর অবস্থায় ৬ জনকে ধরে ফেলে স্থানীয়রা৷ এরপর তাদেরকে ধরে ফেলে পুলিশে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা রত্না মালিক বলেন, “আমার বাড়ির একদম পাশাপাশি বাড়ি অভিযুক্তের। আগেো এই ধরণের ঘটনা দেখেছি। কিন্তু কিছু বলিনি কারণ ভয় পেতাম আমরা সকলে। ভয় পেতাম যদি ওরা হামলা করে আমাদের উপর। কিন্তু আজ রাতে দেখি আচমকা বাড়িতে তিন-চারজন অচেনা যুবক-যুবতি ওই বাড়িতে ঢুকতে থাকে। ঘটনা বুঝতে আমাদের অসুবিধা হয়নি। বাড়ি ঢুকতেই দেখি সবাই নোংরা পোশাক পরে শুয়ে রয়েছে। তখনই আমরা দল বেঁধে ওদের হাতেনাতে ধরে ফেলি।”