সোমবার বারুইপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে ঘটে গেল কয়েদিদের গ্যাঙওয়ার। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারামারির ফলে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল কারাগারে। এদিন বিকেলে নাম ডাকাডাকির সময় এই অশান্তির সূত্রপাত ঘটে। প্রথমে দুই পক্ষের কয়েদিদের মধ্যে হাতাহাতির মধ্যেই সেই অশান্তি সীমিত থাকলেও পরে  ইট-পাটকেল ছোড়াছুঁড়িতে রীতিমতো গ্যাঙওয়ারের পরিবেশ তৈরি হয়। অশান্তি থামাতে গিয়ে দুই পক্ষের ইটবৃষ্টির মধ্যে পড়ে মাথা ফাটে সাব জেলার শ্যামল ভট্টাচার্যের। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে চিকিৎসার জন্য।

জানা গিয়েছে, সাধারণত বিকেলবেলাটা নির্দিষ্ট করা থাকে এই কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের বন্দিদের খেলাধূলো ও অন্য়ান্য বিনোদনের জন্য। তারপর তারা বিকেলের জলখাবার খায়। এইজলকাববার বিতরণ নিয়েই গন্ডোগোল বাধে বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। জানা গিয়েছে খাবার বন্টন নিয়ে বারুইপুর সংশোধনাগারে দীর্ঘদিন ধরেই দুই গোষ্ঠীর বন্দিদের ঝামেলা চলছিল। এদিনও আরেকপ্রস্থ ঝামেলা বাধে। সেই ঝামেলাই বাড়তে বাড়তে দ্রুত ভয়াবহ াকার নেয়ষ

জেলসূত্রে খবর, দুই পক্ষে এমন পাথর ছোড়াছুড়ি চলছিল যে কোনও কারারক্ষী বন্দিদের কাছে পৌঁছতে পারছিলেন না। এই অবস্থায় সাহস করে এগোতে গিয়েছিলেন অতিরিক্ত জেল সুপার শ্যামল চক্রবর্তী। কিন্তু তাতে মারাত্মক জখম হয়েছেন তিনি। মাথায় আঘাত লাগায় বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে তাঁর সিটি স্ক্যান করা হয়। ওই হাসপাতালেই চিকিৎসা রয়েছেন তিনি। তবে শুধু মাথা নয়, অন্যান্য কারারক্ষীরা জানিয়েছেন তাঁর গোটা শরীরেই অনেকগুলি ইটের আঘাত লেগেছে। তাঁর শরীরের আরও হাড় ভেঙে থাকতে পারে।

দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে এই গোষ্ঠীযুদ্ধ চলেছে। অবস্থা সামলাতে শেষে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী চেয়ে পাঠায়। আপাতত তারা কারাগারে শৃ্ঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছে বলেই শেষ খবর পাওয়া গিয়েছে।