বুদ্ধদেব পাত্র, পুরুলিয়া: এশিয়ানেট নিউজ বাংলার খবরের জের। অবশেষে টনক নড়ল প্রশাসনের। মঙ্গলবার পুরুলিয়ার ঝালদা শহরে বেহাল জলের ট্যাঙ্কটি পরিদর্শন করলেন খোদ মহকুমাশাসক সুশান্ত কুমার ভক্ত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঝালদা এক নম্বর ব্লকের বিডিও, প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শক ও এলাকা কাউন্সিলরও।  নিরাপত্তাজনিত কারণে আপাতত ট্যাঙ্ক লাগোয়া প্রাথমিক স্কুলটি প্রশাসনের তরফে অন্য়ত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এ রাজ্যে তখন ক্ষমতায় বামেরা। ১৯৮৭ সালে পুরুলিয়ার ঝালদা শহরের এক নম্বর ওয়ার্ডে পানীয় জলের একটি ট্যাঙ্ক তৈরি করেছিল জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর। ট্যাঙ্কটির জল ধারণ ক্ষমতা ৬ লক্ষ ৮১হাজার লিটার। কিন্তু মাঝের তিন দশকে ট্যাঙ্কটির আর সংস্কার করা হয়নি বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ট্যাঙ্কের দেওয়াল ও পিলারে ফাটল ধরেছে। প্রতিদিন খসে পড়ছে চাঙড়। বেশ কয়েকবার ঘটেছে দুর্ঘটনাও। শুধু তাই নয়, শহরের যে এলাকায় ট্যাঙ্কটি রয়েছে, সেই এলাকাটি যথেষ্ট জনবহুল। বস্তত, ট্যাঙ্কের পাশে প্রাথমিক স্কুল ও বস্তিও আছে। ফলে রীতিমতো আতঙ্কে ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবিলম্বে ট্যাঙ্কটি সংস্কার করার জন্য মহকুমাশাসক, এমনকী জেলাশাসকের কাছেও তাঁরা আবেদন করেছেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু ট্যাঙ্কের গায়ে 'বিপজ্জনক' লেখা বোর্ড ঝুলিয়ে প্রশাসন দায় সেরেছে বলে অভিযোগ। 

 শনিবার এই খবর এশিয়ানেট নিউজ বাংলায় প্রচারিত হওয়ার পর নড়চড়ে বসল প্রশাসন। মহকুমাশাসক তো ট্যাঙ্কটি  পরিদর্শন তো করলেনই, নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকার প্রাথমিক স্কুলটিকেও অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। কিন্তু ঘটনা হল, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ আরও বেড়েছে। এলাকাবাসীর বক্তব্য়, স্কুল যখন সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তখন ট্যাঙ্কির অবস্থা যে বেহাল, তা নিয়ে আর সন্দেহের অবকাশ নেই। সেক্ষেত্রে তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে? যদিও এ বিষয়ে মহকুমাশাসকের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বস্তুত স্রেফ প্রাথমিক স্কুলটি সরিয়ে নিয়ে গেলেই যে সমস্যা মিটবে না, তা মেনে নিয়েছেন ঝালদার কংগ্রেস বিধায়ক নেপাল মাহাতোও। ট্যাঙ্কের বেহাল দশার জন্য জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরকেই দায়ি করেছেন তিনি।