​নিজের আইনজীবীকে খুন করতে এসে অস্ত্র সহ পুলিশের জালে ধরা পড়ল এক ব্যক্তি। তবে অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলো আইনজীবী অশোক মন্ডল ও তার ছেলে সুমন। ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন আইনজীবীর পরিবার। 

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার মেদিনীপুর শহরের লাইব্রেরি রোড এলাকায়। আইনজীবী অশোকবাবুর থেকে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তি অনিল কুমার সিনহার সঙ্গে তার স্ত্রীর ডিভোর্সের মামলায় অনিল সিনহার হয়ে মামলা লড়েছিলেন অশোকবাবু। মেদিনীপুর আদালতে মামলায় জিতে যায় অনিল সিনহা। পরে তার স্ত্রী মেদিনীপুর আদালতের মামলাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করে এবং খোরপোষ হিসেবে প্রতিমাসে ১০ হাজার করে স্ত্রীকে দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। 

এরপর অনিল সিনহা অশোকবাবুর সাহায্য নিয়ে হাইকোর্টের আইনজীবী ধরে হাইকোর্টে মামলা লড়েন। কিন্তু হাইকোর্টে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলার পরেও শুনানি হয়নি। এরপরে অনিল সিনহা আবারও অশোক মন্ডলকে বলেন, হাইকোর্টের মামলার শুনানির জন্য সাহায্য করতে। তা না করায় আজ সকালে অস্ত্র নিয়ে আইনজীবীর বাড়িতে চড়াও হয় এবং অশোকবাবুর ছেলে সুমনের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ভয় দেখায়। সেই সময় অশোকবাবুর সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে পিস্তলের ম্যাগাজিন বেরিয়ে পড়ে যায়। এরপর ভোজালি বের করে আক্রমণ করতে গেলে তাকে জাপটে ধরে আইনজীবী ও তার ছেলে। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশী এসে ঐ ব্যক্তি ধরে ফেলে এবং পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

ধৃত ব্যক্তি বীরভূমের বাসিন্দা এবং বক্রেশ্বর থার্মাল পাওয়ার স্টেশনের কর্মী। পুলিশ ধৃতের কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১২ রাউন্ড কার্তুজ ও দুটি ভোজালি উদ্ধার করে। ঐ ব্যক্তি কোনও অপরাধমূলক কাজ করার জন্যই মেদিনীপুরে এসেছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। ধৃত ব্যক্তিকে মেদিনীপুর আদালতে তোলা হলে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত ৷