মাত্র পাঁচ বছর বয়স। কথায় এখনও আদো আদো ভাব। রায়গঞ্জের পাঁচ বছরের ছোট্ট সেই মেয়ের গাওয়া একটি গানই এখন ঝড় তুলেছে ইউটিউবে। মাত্র সাতদিনে আড়াই কোটি ভিউ হয়েছে সেই গানের। দেশ, বিদেশ থেকে আসছে প্রশংসা। এমন কী যার গাওয়া গান গেয়ে বিখ্যাত হয়েছে এই শিশুকন্যা, সেই অরিজিৎ সিংহও সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। 

রায়গঞ্জের তুলসিপাড়ার বাসিন্দা পাঁচ বছরের এই শিশুকন্যার নাম ওলি কুণ্ডু। ওলি অবশ্য তার ডাকনাম। স্থানীয় সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের কেজি ওয়ানের পড়ুয়ার ওলির ভাল সমৃদ্ধি। কিন্তু ইউটিউবে ওলি নামে সার্চ দিলেই বেরিয়ে আসছে তার গাওয়া গান। 

আরও পড়ুন-সাত দিনে আড়াই কোটি ভিউ, পাঁচ বছরের ওলির গান ইউটিউবে ভাইরাল, দেখুন ভিডিও

আরও পড়ুন-জল অপচয় রুখে রায়গঞ্জের রোল মডেল হল ষষ্ঠ শ্রেণির এই ছাত্রী

ওলির মা আলভা কুণ্ডু অবশ্য জানাচ্ছেন, এখনও পর্যন্ত সে অর্থে গান শেখেনি ছোট্ট ওলি। বাড়িতে মায়ের সঙ্গে নানা গান গুন গুন করত সে। কিন্তু মেয়ের গানের গলায় অন্য জাদু রয়েছে, তা চোখ এড়ায়নি ওলির বাবা- মায়ের। ওলির যখন সাড়ে তিন বছর বয়স, তখনই তার গান শুনে স্থানীয় একটি রেকর্ডিং স্টুডিও কর্ণধার গান রেকর্ডিংয়ের প্রস্তাব দেন। ওলির বাবা- মা অবশ্য তখন বিষয়টিকে সেভাবে গুরুত্ব দেননি। শেষ পর্যন্ত কয়েকদিন আগে 'শাংহাই' ছবিতে গাওয়া অরিজিৎ সিংয়ের 'দুয়া' গানটি ওই স্টুডিওতে গিয়ে রেকর্ড করে ওলি। নিজেদের ইউটিউব পেজে সেই গান আপলোড করেন ওই রেকর্ডিং স্টুডিও-র কর্ণধার। 

এর পর থেকেই কার্যত ভাইরাল হয়ে যায় ওলির গাওয়া ওই গান। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গত সাত দিন আড়াই কোটিবার তা ভিউ হয়েছে ইউটিউবে। লাইক পড়েছে ১৮ লক্ষ্য। পাঁচ বছরের মেয়ের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে প্রায় আশি হাজার মানুষ কমেন্ট করেছেন ওই ভিডিও-র নীচে। অরিজিৎ সিংহ নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ওলিকে।

রায়গঞ্জের ছেলে এবং বিখ্যাত গায়ক এবং সঙ্গীত পরিচালক রানা মজুমদারও ওলির গান শুনে উচ্ছ্বসিত। ভিডিও বার্তায় তিনি ওলির বাবা, মাকে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ঠিকমতো তালিম পেলে গানের জগতে ওলির সাফল্য নিশ্চিত। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে কোনও শিশুশিল্পীকে দিয়ে গান গাওয়ানোর প্রয়োজন হলে তিনি যে ওলিকেই ডাকবেন, তাও জানিয়েছেন রানা। 

মেয়ের গান যে এভাবে দেশ বিদেশে জনপ্রিয় হবে, ওলির মা আলভা কুণ্ডও তা ভাবতে পারেননি। তিনি বলেন, 'সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক পাওয়া বা অতকিছু ভেবে আমরা ওর গান ইউটিউবে দিইনি। কিন্তু এখন তো পাকিস্তান, বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে শুভেচ্ছা আসছে। এমনিতেই বাচ্চাদের গান শুনতে ভাল লাগে, আর নিজের মেয়ে হলে তো কথাই নেই।'

আর যাকে নিয়ে এত কাণ্ড, সেই ওলির অবশ্য এসব নিয়ে মাথাব্যথা নেই। গান গাওয়াটা পুরোটাই নির্ভর করে তার মেজাজের উপরে। সবাই তার গানের প্রশংসা করায় কেমন লাগছে জানতে চাইতেই তার সহজ জবাব, 'আমি তো এমনি এমনি গান করি। শুধু সেদিন একটা ঘরে গিয়ে কানে কী একটা লাগিয়ে গান করতে হয়েছিল!’